আমানতে বাজারভিত্তিক মুনাফা দেবে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
- আপডেট সময় ১০:৪২:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 339
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের আমানতের ওপর বাজারভিত্তিক নতুন ও আকর্ষণীয় মুনাফার হার ঘোষণা করেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এই মুনাফার হার কার্যকর হয়েছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, এক বছর বা তার বেশি মেয়াদের আমানতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আমানতের বিপরীতে গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক ঋণ সুবিধাও রাখা হয়েছে। আমানতের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন গ্রাহকরা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কারও আমানত যদি ২০ কোটি টাকা হয়, তবে তিনি সর্বোচ্চ ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এতে গ্রাহকদের তারল্য সংকট অনেকটাই কমবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গভর্নর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মূল টাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। তবে তা পর্যায়ক্রমে উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি জানান, একসঙ্গে সব আমানত উত্তোলনের সুযোগ দিলে ব্যাংকের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিষয়টি স্লুইসগেটের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আস্তে আস্তে খুললেই নিরাপদভাবে পানি বের হয়।
ড. আহসান এইচ মনসুর আরও জানান, শুরুতে ডিমান্ড ডিপোজিট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং দুটি স্বল্পমেয়াদি স্কিম থেকে টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব হিসাব থেকে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারছেন। যাদের জমা এর কম, তারা পুরো টাকাই তুলতে পারছেন।
তিনি বলেন, গত বুধবার থেকে ফিক্সড ডিপোজিট, মানি স্কিমসহ সব ধরনের আমানত স্কিম থেকেই টাকা উত্তোলনের সুযোগ চালু হয়েছে। বর্তমানে যেকোনো স্কিম থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত তোলা যাচ্ছে। মেয়াদপূর্তির ক্ষেত্রে আমানত রোলওভার হবে এবং মুনাফাও পর্যায়ক্রমে উত্তোলন করা যাবে।
গভর্নর জানান, কম্পিউটার সিস্টেম ও মুনাফা হিসাবসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে প্রক্রিয়াটি শুরু করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেম একীভূত করা সময়সাপেক্ষ কাজ। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব ভেন্ডরের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। ধাপে ধাপে অনলাইন ব্যাংকিং, আরটিজিএস ও এটিএম সেবাও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।





















