ঢাকা ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

অকাল বন্যায় পদ্মার চরাঞ্চলে ডুবে গেছে বাদাম ও তিলের ফসল, সর্বস্বান্ত কৃষকরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
  • / 385

ছবি সংগৃহীত

 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর পানি আকস্মিকভাবে বাড়ায় গত এক সপ্তাহে চরাঞ্চলের প্রায় ৭০০ একর জমির বাদাম ও তিল ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরের কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চরকল্যানপুর, দিয়ারা গোপালপুর ও ঝাউকান্দা চরে দেখা যায়, প্রায় ৫০০ একর জমির বাদাম ও তিল ফসল সম্পূর্ণরূপে পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমির অধিকাংশ ফসল পাকার কাছাকাছি অবস্থায় ছিল। হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারেননি।

আরও পড়ুন  পদ্মা ব্যাংক: অফিসার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

চরহরিরামপুর ইউনিয়নের আরজখার ডাঙ্গী ও চর শালেপুর মৌজার প্রায় ৫০ একর এবং গাজীরটেক ইউনিয়নের মাঝি ডাঙ্গী, বঙ্গেশ্বর ডাঙ্গী ও জয়দেব সরকার ডাঙ্গী গ্রামের আরও ৫০ একর জমির বাদাম ও তিল ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। একইভাবে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের আ. গফুর মৃধা ডাঙ্গী, কামার ডাঙ্গী ও মাথাভাঙ্গা গ্রামের প্রায় ১০০ একর বাদাম ক্ষেত ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে।

চরের মাঠে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ একত্রে পানির নিচ থেকে বাদাম তুলছেন। তারা জানান, ব্যয়ের অর্ধেকও ফেরত আসবে না। অনেকে আবার ঋণ করে চাষ করেছিলেন, এখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়েই ভাবনায় পড়েছেন।

দিয়ারা গোপালপুর মৌজার কৃষক আবেদ আলী বলেন, “আমার ১৮ বিঘা জমির বাদাম ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে হাঁটু পানিতে নেমে কিছু বাদাম তুলছি, কিন্তু এগুলোর বাজারে তেমন দাম নেই।”

চরকল্যানপুরের চাষি কবির খালাসি জানান, “প্রায় দেড় একর জমির বাদাম ক্ষেত পুরো ডুবে গেছে। এখন বাদাম তুললেও বেশিরভাগের ভেতরে দানা নেই। বাড়িতে নিতে খরচ হবে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। লোকসান অনিবার্য।”

চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা বলেন, “অন্তত ২ হাজার বিঘা জমির বাদাম ও তিল ফসল বিনষ্ট হয়েছে। কৃষকেরা কার্যত সর্বস্বান্ত। তাদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।”

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান জানান, “ক্ষতিগ্রস্ত মাঠগুলোর জরিপ ও পরিদর্শন চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

নিউজটি শেয়ার করুন

অকাল বন্যায় পদ্মার চরাঞ্চলে ডুবে গেছে বাদাম ও তিলের ফসল, সর্বস্বান্ত কৃষকরা

আপডেট সময় ১০:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর পানি আকস্মিকভাবে বাড়ায় গত এক সপ্তাহে চরাঞ্চলের প্রায় ৭০০ একর জমির বাদাম ও তিল ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরের কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চরকল্যানপুর, দিয়ারা গোপালপুর ও ঝাউকান্দা চরে দেখা যায়, প্রায় ৫০০ একর জমির বাদাম ও তিল ফসল সম্পূর্ণরূপে পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমির অধিকাংশ ফসল পাকার কাছাকাছি অবস্থায় ছিল। হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারেননি।

আরও পড়ুন  পদ্মা সেতুতে বাস-প্রাইভেটকার-ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত

চরহরিরামপুর ইউনিয়নের আরজখার ডাঙ্গী ও চর শালেপুর মৌজার প্রায় ৫০ একর এবং গাজীরটেক ইউনিয়নের মাঝি ডাঙ্গী, বঙ্গেশ্বর ডাঙ্গী ও জয়দেব সরকার ডাঙ্গী গ্রামের আরও ৫০ একর জমির বাদাম ও তিল ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। একইভাবে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের আ. গফুর মৃধা ডাঙ্গী, কামার ডাঙ্গী ও মাথাভাঙ্গা গ্রামের প্রায় ১০০ একর বাদাম ক্ষেত ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে।

চরের মাঠে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ একত্রে পানির নিচ থেকে বাদাম তুলছেন। তারা জানান, ব্যয়ের অর্ধেকও ফেরত আসবে না। অনেকে আবার ঋণ করে চাষ করেছিলেন, এখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়েই ভাবনায় পড়েছেন।

দিয়ারা গোপালপুর মৌজার কৃষক আবেদ আলী বলেন, “আমার ১৮ বিঘা জমির বাদাম ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে হাঁটু পানিতে নেমে কিছু বাদাম তুলছি, কিন্তু এগুলোর বাজারে তেমন দাম নেই।”

চরকল্যানপুরের চাষি কবির খালাসি জানান, “প্রায় দেড় একর জমির বাদাম ক্ষেত পুরো ডুবে গেছে। এখন বাদাম তুললেও বেশিরভাগের ভেতরে দানা নেই। বাড়িতে নিতে খরচ হবে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। লোকসান অনিবার্য।”

চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা বলেন, “অন্তত ২ হাজার বিঘা জমির বাদাম ও তিল ফসল বিনষ্ট হয়েছে। কৃষকেরা কার্যত সর্বস্বান্ত। তাদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।”

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান জানান, “ক্ষতিগ্রস্ত মাঠগুলোর জরিপ ও পরিদর্শন চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”