ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

দেশে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে রেকর্ড গতি, ১০ মাসেই শোধ ৩৫০ কোটি ডলার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
  • / 598

ছবি সংগৃহীত

 

 

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসেই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে আগের পুরো অর্থবছরকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে উঠে এসেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দেশটি উন্নয়ন সহযোগীদের মোট ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরজুড়ে পরিশোধ হয়েছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।

আরও পড়ুন  চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপপ্রবাহ, জনজীবন বিপর্যস্ত

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের হার বেড়েছে ২৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এর মধ্যে মূল ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল সময়ে আসল পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের বেশি (২.০২১ বিলিয়ন), যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৬৬ কোটি ডলার।

সুদ পরিশোধেও বেড়েছে চাপ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সুদ পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ১২৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ফলে সুদ পরিশোধ বেড়েছে ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বৈদেশিক উৎস থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করেছে। এসব ঋণের অনেকেরই সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি এবং পরিশোধের সময়সীমাও কম। অনেক ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন মূল কিস্তি ও সুদ উভয়ই একসঙ্গে পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে চাপ বেড়েছে সরকারের ওপর।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, ঋণ পরিশোধে সরকারের এই সক্রিয়তা একদিকে আন্তর্জাতিক মানে দেশের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে সহায়তা করলেও, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

অর্থনৈতিক সূচকের ওপর ঋণ পরিশোধের এই ঊর্ধ্বগতি কেমন প্রভাব ফেলবে তা নির্ভর করছে সরকারের ভবিষ্যৎ ঋণ ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর।

তবে সুস্পষ্টভাবে বলা যায়, আগামি মাসগুলোতে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা ও পরিকল্পনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে রেকর্ড গতি, ১০ মাসেই শোধ ৩৫০ কোটি ডলার

আপডেট সময় ০৭:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

 

 

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসেই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে আগের পুরো অর্থবছরকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে উঠে এসেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দেশটি উন্নয়ন সহযোগীদের মোট ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরজুড়ে পরিশোধ হয়েছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।

আরও পড়ুন  রেকর্ড উচ্চতায় স্বর্ণের দাম: ভরিতে বাড়ল ৩২৬৬ টাকা

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের হার বেড়েছে ২৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এর মধ্যে মূল ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল সময়ে আসল পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের বেশি (২.০২১ বিলিয়ন), যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৬৬ কোটি ডলার।

সুদ পরিশোধেও বেড়েছে চাপ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সুদ পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ১২৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ফলে সুদ পরিশোধ বেড়েছে ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বৈদেশিক উৎস থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করেছে। এসব ঋণের অনেকেরই সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি এবং পরিশোধের সময়সীমাও কম। অনেক ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন মূল কিস্তি ও সুদ উভয়ই একসঙ্গে পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে চাপ বেড়েছে সরকারের ওপর।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, ঋণ পরিশোধে সরকারের এই সক্রিয়তা একদিকে আন্তর্জাতিক মানে দেশের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে সহায়তা করলেও, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

অর্থনৈতিক সূচকের ওপর ঋণ পরিশোধের এই ঊর্ধ্বগতি কেমন প্রভাব ফেলবে তা নির্ভর করছে সরকারের ভবিষ্যৎ ঋণ ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর।

তবে সুস্পষ্টভাবে বলা যায়, আগামি মাসগুলোতে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা ও পরিকল্পনা জরুরি হয়ে পড়েছে।