ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / 18

ছবি: সংগৃহীত

 

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন) কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  ইন্টারনেট বন্ধ ও হত্যাযজ্ঞ মামলা: জয়-পলকের বিরুদ্ধে আজ বিটিসিএল কর্মকর্তার সাক্ষ্য

আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিচারকের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই বিপুল মামলার চাপ সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা ও অধস্তন আদালত পর্যন্ত পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই প্রচলিত বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত আইনে ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালে নতুন মামলা প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, বণ্টনসংক্রান্ত মামলা, স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রি-এম্পশন মামলা, নন-অ্যাগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইন এবং পিতামাতার ভরণপোষণ আইনের মামলাতেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যৌতুক নিরোধ আইনে দায়ের হওয়া মামলাও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে সময়ের ৫ হাজার ৬০৫টি থেকে ২০২৬ সালের একই সময়ে ১ হাজার ৮১০টিতে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ কম।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পেয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন নতুন করে আদালতে জমা হওয়া মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বা অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আদালতে মামলা হওয়ার পরও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব হলে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে।

তিনি বলেন, মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিচারাধীন মামলাগুলোতেও কার্যকর মধ্যস্থতা চালানো গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে বর্তমান প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন মামলা চলায় সাধারণ মানুষ মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। এ কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

তিনি জানান, সরকার শুধু মামলা কমাতে নয়, অসহায়, দরিদ্র ও বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। কক্সবাজারে বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি দ্রুত, কম খরচে এবং কার্যকরভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি জানান, আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

 

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন) কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমস–এর বিরুদ্ধে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মামলা করলেন

আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিচারকের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই বিপুল মামলার চাপ সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা ও অধস্তন আদালত পর্যন্ত পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই প্রচলিত বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত আইনে ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালে নতুন মামলা প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, বণ্টনসংক্রান্ত মামলা, স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রি-এম্পশন মামলা, নন-অ্যাগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইন এবং পিতামাতার ভরণপোষণ আইনের মামলাতেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যৌতুক নিরোধ আইনে দায়ের হওয়া মামলাও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে সময়ের ৫ হাজার ৬০৫টি থেকে ২০২৬ সালের একই সময়ে ১ হাজার ৮১০টিতে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ কম।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পেয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন নতুন করে আদালতে জমা হওয়া মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বা অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আদালতে মামলা হওয়ার পরও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব হলে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে।

তিনি বলেন, মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিচারাধীন মামলাগুলোতেও কার্যকর মধ্যস্থতা চালানো গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে বর্তমান প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন মামলা চলায় সাধারণ মানুষ মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। এ কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

তিনি জানান, সরকার শুধু মামলা কমাতে নয়, অসহায়, দরিদ্র ও বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। কক্সবাজারে বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি দ্রুত, কম খরচে এবং কার্যকরভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি জানান, আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।