ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

৩৭ শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশে উত্তাল কুয়েট, ক্লাসে ফেরেননি শিক্ষকরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • / 498

ছবি সংগৃহীত

 

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ৩৭ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার (১৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে দাবি তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কুয়েট প্রশাসন ভিত্তিহীন অভিযোগে গত সোমবার ৩৭ শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে। এতে বলা হয়, তাদেরকে ১৫ মে বিকেল ৫টার মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে হবে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের লাঞ্ছনার যে অভিযোগে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা সত্যনির্ভর নয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়াটি প্রহসনমূলক। এ বিষয়ে দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তারা।

আরও পড়ুন  কুয়েট উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

এদিকে, একাডেমিক কার্যক্রম চালু হওয়ার সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও ক্লাসে ফেরেননি কুয়েটের শিক্ষকরা। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহিদুল ইসলাম জানান, লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন চলবে। তিনি বলেন, “আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও বিরত থাকবো।”

এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন শোকজ প্রত্যাহারের দাবিতে, অন্যদিকে শিক্ষকরা অবস্থান নিচ্ছেন শাস্তির দাবিতে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ইলিয়াছ আক্তার বলেন, “শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছালে শিক্ষার পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

৩৭ শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশে উত্তাল কুয়েট, ক্লাসে ফেরেননি শিক্ষকরা

আপডেট সময় ০৩:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

 

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ৩৭ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার (১৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে দাবি তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কুয়েট প্রশাসন ভিত্তিহীন অভিযোগে গত সোমবার ৩৭ শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে। এতে বলা হয়, তাদেরকে ১৫ মে বিকেল ৫টার মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে হবে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের লাঞ্ছনার যে অভিযোগে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা সত্যনির্ভর নয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়াটি প্রহসনমূলক। এ বিষয়ে দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তারা।

আরও পড়ুন  কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি, না মানলে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতের হুঁশিয়ারি

এদিকে, একাডেমিক কার্যক্রম চালু হওয়ার সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও ক্লাসে ফেরেননি কুয়েটের শিক্ষকরা। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহিদুল ইসলাম জানান, লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন চলবে। তিনি বলেন, “আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও বিরত থাকবো।”

এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন শোকজ প্রত্যাহারের দাবিতে, অন্যদিকে শিক্ষকরা অবস্থান নিচ্ছেন শাস্তির দাবিতে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ইলিয়াছ আক্তার বলেন, “শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছালে শিক্ষার পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।