ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

নতুন সংবিধানে সময় লাগবে ২-৩ বছর: আসিফ নজরুল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 413

ছবি সংগৃহীত

 

নতুন সংবিধান প্রণয়নে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। রোববার রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে নাগরিক উদ্যোগ ‘নাগরিক কোয়ালিশন’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সভার বিষয় ছিল ‘সংবিধান সংস্কারে নাগরিক জোটের ৭ প্রস্তাব’।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “জাতীয় সংসদই সংবিধান প্রণয়ন করে। একটি নতুন সংবিধান তৈরি করতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রায় ৮-৯ বছর পর্যন্ত লেগেছে। আমাদের ক্ষেত্রেও এটি দীর্ঘ সময়ের প্রক্রিয়া হতে পারে।”

আরও পড়ুন  সৌদি ও জর্ডানে অবৈধ নারী শ্রমিকদের বৈধতার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: আসিফ নজরুল।

তিনি আরও বলেন, “যতদিন না পর্যন্ত নতুন সংবিধান কার্যকর হচ্ছে, ততদিন ১৯৭২ সালের সংবিধানকেই সংশোধন করে সামনে এগোতে হবে। এই সময়টাতে সংসদই কার্যত সংবিধান পরিচালকের ভূমিকা পালন করবে।”

সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ গঠন এবং এর ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণপরিষদ কাজ শুরু করলে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নেও ২-৩ বছর সময় লেগে যেতে পারে। সেই সময়কালে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতেই চলতে হবে। তবে সেই সময়ের মধ্যেই কিছু মৌলিক পরিবর্তন যেমন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, উচ্চ আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংবিধানের আর্টিকেল ১৭—এসব বিষয়ের সংস্কার আনতে হবে।”

আলোচনায় ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই সনদের ওপর অনেক গুরুত্ব দেওয়া হলেও আমরা ধরে নিতে পারি না যে সবাই একমত হবে। তবে এতে কিছু মৌলিক বিষয়ের সংযোজন সম্ভব।”

প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি একটি জনপ্রিয় দাবি এবং আমিও তা সমর্থন করি। তবে শুধু দাবি করলেই হবে না, এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধ করার নজির খুব একটা নেই। ভারত বা যুক্তরাজ্যেও নেই। সুতরাং মূল বিষয় হলো মেয়াদ নির্ধারণ নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস করা।”

তিনি বলেন, “দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি। এর জন্য একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা ও সর্বস্তরের মতামতের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন সংবিধানে সময় লাগবে ২-৩ বছর: আসিফ নজরুল

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

 

নতুন সংবিধান প্রণয়নে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। রোববার রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে নাগরিক উদ্যোগ ‘নাগরিক কোয়ালিশন’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সভার বিষয় ছিল ‘সংবিধান সংস্কারে নাগরিক জোটের ৭ প্রস্তাব’।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “জাতীয় সংসদই সংবিধান প্রণয়ন করে। একটি নতুন সংবিধান তৈরি করতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রায় ৮-৯ বছর পর্যন্ত লেগেছে। আমাদের ক্ষেত্রেও এটি দীর্ঘ সময়ের প্রক্রিয়া হতে পারে।”

আরও পড়ুন  তদন্ত অসম্পূর্ণ, ফাইয়াজের মামলায় পদক্ষেপ নিতে পারছে না মন্ত্রণালয় : আসিফ নজরুল

তিনি আরও বলেন, “যতদিন না পর্যন্ত নতুন সংবিধান কার্যকর হচ্ছে, ততদিন ১৯৭২ সালের সংবিধানকেই সংশোধন করে সামনে এগোতে হবে। এই সময়টাতে সংসদই কার্যত সংবিধান পরিচালকের ভূমিকা পালন করবে।”

সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ গঠন এবং এর ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণপরিষদ কাজ শুরু করলে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নেও ২-৩ বছর সময় লেগে যেতে পারে। সেই সময়কালে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতেই চলতে হবে। তবে সেই সময়ের মধ্যেই কিছু মৌলিক পরিবর্তন যেমন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, উচ্চ আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংবিধানের আর্টিকেল ১৭—এসব বিষয়ের সংস্কার আনতে হবে।”

আলোচনায় ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই সনদের ওপর অনেক গুরুত্ব দেওয়া হলেও আমরা ধরে নিতে পারি না যে সবাই একমত হবে। তবে এতে কিছু মৌলিক বিষয়ের সংযোজন সম্ভব।”

প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি একটি জনপ্রিয় দাবি এবং আমিও তা সমর্থন করি। তবে শুধু দাবি করলেই হবে না, এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধ করার নজির খুব একটা নেই। ভারত বা যুক্তরাজ্যেও নেই। সুতরাং মূল বিষয় হলো মেয়াদ নির্ধারণ নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস করা।”

তিনি বলেন, “দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি। এর জন্য একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা ও সর্বস্তরের মতামতের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।”