ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

নতুন সংবিধানে সময় লাগবে ২-৩ বছর: আসিফ নজরুল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 312

ছবি সংগৃহীত

 

নতুন সংবিধান প্রণয়নে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। রোববার রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে নাগরিক উদ্যোগ ‘নাগরিক কোয়ালিশন’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সভার বিষয় ছিল ‘সংবিধান সংস্কারে নাগরিক জোটের ৭ প্রস্তাব’।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “জাতীয় সংসদই সংবিধান প্রণয়ন করে। একটি নতুন সংবিধান তৈরি করতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রায় ৮-৯ বছর পর্যন্ত লেগেছে। আমাদের ক্ষেত্রেও এটি দীর্ঘ সময়ের প্রক্রিয়া হতে পারে।”

আরও পড়ুন  নিজের কাজের হিসাব দিলেন আসিফ নজরুল

তিনি আরও বলেন, “যতদিন না পর্যন্ত নতুন সংবিধান কার্যকর হচ্ছে, ততদিন ১৯৭২ সালের সংবিধানকেই সংশোধন করে সামনে এগোতে হবে। এই সময়টাতে সংসদই কার্যত সংবিধান পরিচালকের ভূমিকা পালন করবে।”

সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ গঠন এবং এর ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণপরিষদ কাজ শুরু করলে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নেও ২-৩ বছর সময় লেগে যেতে পারে। সেই সময়কালে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতেই চলতে হবে। তবে সেই সময়ের মধ্যেই কিছু মৌলিক পরিবর্তন যেমন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, উচ্চ আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংবিধানের আর্টিকেল ১৭—এসব বিষয়ের সংস্কার আনতে হবে।”

আলোচনায় ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই সনদের ওপর অনেক গুরুত্ব দেওয়া হলেও আমরা ধরে নিতে পারি না যে সবাই একমত হবে। তবে এতে কিছু মৌলিক বিষয়ের সংযোজন সম্ভব।”

প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি একটি জনপ্রিয় দাবি এবং আমিও তা সমর্থন করি। তবে শুধু দাবি করলেই হবে না, এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধ করার নজির খুব একটা নেই। ভারত বা যুক্তরাজ্যেও নেই। সুতরাং মূল বিষয় হলো মেয়াদ নির্ধারণ নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস করা।”

তিনি বলেন, “দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি। এর জন্য একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা ও সর্বস্তরের মতামতের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন সংবিধানে সময় লাগবে ২-৩ বছর: আসিফ নজরুল

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

 

নতুন সংবিধান প্রণয়নে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। রোববার রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে নাগরিক উদ্যোগ ‘নাগরিক কোয়ালিশন’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সভার বিষয় ছিল ‘সংবিধান সংস্কারে নাগরিক জোটের ৭ প্রস্তাব’।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “জাতীয় সংসদই সংবিধান প্রণয়ন করে। একটি নতুন সংবিধান তৈরি করতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রায় ৮-৯ বছর পর্যন্ত লেগেছে। আমাদের ক্ষেত্রেও এটি দীর্ঘ সময়ের প্রক্রিয়া হতে পারে।”

আরও পড়ুন  নিজের কাজের হিসাব দিলেন আসিফ নজরুল

তিনি আরও বলেন, “যতদিন না পর্যন্ত নতুন সংবিধান কার্যকর হচ্ছে, ততদিন ১৯৭২ সালের সংবিধানকেই সংশোধন করে সামনে এগোতে হবে। এই সময়টাতে সংসদই কার্যত সংবিধান পরিচালকের ভূমিকা পালন করবে।”

সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ গঠন এবং এর ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণপরিষদ কাজ শুরু করলে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নেও ২-৩ বছর সময় লেগে যেতে পারে। সেই সময়কালে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতেই চলতে হবে। তবে সেই সময়ের মধ্যেই কিছু মৌলিক পরিবর্তন যেমন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, উচ্চ আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংবিধানের আর্টিকেল ১৭—এসব বিষয়ের সংস্কার আনতে হবে।”

আলোচনায় ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই সনদের ওপর অনেক গুরুত্ব দেওয়া হলেও আমরা ধরে নিতে পারি না যে সবাই একমত হবে। তবে এতে কিছু মৌলিক বিষয়ের সংযোজন সম্ভব।”

প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি একটি জনপ্রিয় দাবি এবং আমিও তা সমর্থন করি। তবে শুধু দাবি করলেই হবে না, এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধ করার নজির খুব একটা নেই। ভারত বা যুক্তরাজ্যেও নেই। সুতরাং মূল বিষয় হলো মেয়াদ নির্ধারণ নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস করা।”

তিনি বলেন, “দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি। এর জন্য একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা ও সর্বস্তরের মতামতের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।”