ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শ্রমিকদের দক্ষতা অনুযায়ী পেশা বদলের অনুমতি দিল কুয়েত সরকার অনুমতি মেলেনি ইরানের, হরমুজ প্রণালিতে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গরুর দুধের পুষ্টি ও শিশুর নিরাপত্তা: মায়েদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য টিপস সরকারের দুই মাস পূর্তিতে সংবাদ সম্মেলন আবারও আলোচনার তারিখ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জামায়াতের নারী সংসদ সদস্য হচ্ছেন যারা টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / 223

ছবি: সংগৃহীত

 

চলতি বছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দুর্বল হবে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে তারা।

পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াবে, যা গত অক্টোবরে করা পূর্বাভাসের চেয়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কম। তবে ২০২৬ সালে এটি আবার ৬ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ সফরে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস যাত

অঞ্চলটির বেশিরভাগ দেশের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোই ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় অর্থনীতিকে আরও সহনশীল করতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদন ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট: ট্যাক্সিং টাইমস’ আজ বুধবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপের কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়াবে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এটি ৪ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হলেও পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে।

আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস পাওয়ায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার থেকেও কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এটি আরও কমে ২ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।

ভুটানে কৃষি খাতে দুর্বলতার কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জলবিদ্যুৎ নির্মাণ খাতে গতি আসায় এটি ৭ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

মালদ্বীপে নতুন বিমানবন্দর টার্মিনাল উদ্বোধনের ফলে ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। তবে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

নেপালে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এটি ৫ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈদেশিক চাপ ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব কাটিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাকিস্তানে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

ঋণ পুনর্গঠনের অগ্রগতির কারণে ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে ২০২৬ সালে এটি কিছুটা কমে ৩ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার বলেন, ‘গত এক দশকে একাধিক ধাক্কা অঞ্চলটি দুর্বল করে দিয়েছে। এখনই সময় বাণিজ্যের দ্বার উন্মুক্ত করা, কৃষি খাত আধুনিকীকরণ এবং বেসরকারি খাত আরও সক্রিয় করে দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার।’

প্রতিবেদন অনুসারে, টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঘরোয়া রাজস্ব বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। যদিও দক্ষিণ এশিয়ায় করের হার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কিন্তু প্রকৃত কর আদায় অনেক কম। ২০১৯-২০২৩ সময়কালে দক্ষিণ এশিয়ার গড় সরকারি রাজস্ব ছিল জিডিপির মাত্র ১৮ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে এটি ২৪ শতাংশ।

কর রাজস্ব এখনো জিডিপির তুলনায় ১ থেকে ৭ শতাংশ কম, যা মূলত অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি ও কৃষি খাতের আধিপত্যের কারণে। তবে এসব বিষয় বিবেচনায় নিলেও কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে, যা কর ব্যবস্থাপনা ও নীতিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওন্সর্জ বলেন, ‘নিম্ন রাজস্ব দক্ষিণ এশিয়ার আর্থিক দুর্বলতার মূল কারণ এবং এটি অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিবেশে স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।’

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে কর ব্যবস্থায় সংস্কার, ফাঁকফোকর বন্ধ, কর বিধিমালা সরলীকরণ, কর আদায়ে প্রযুক্তি ব্যবহার, কর অব্যাহতি হ্রাস এবং দূষণমূল্য আরোপ করার মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় ০৪:১০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

 

চলতি বছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দুর্বল হবে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে তারা।

পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াবে, যা গত অক্টোবরে করা পূর্বাভাসের চেয়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কম। তবে ২০২৬ সালে এটি আবার ৬ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

আরও পড়ুন  বিশ্বব্যাংক ও অন্তর্বর্তী সরকার: এক সমর্থনের প্রতিশ্রুতি অর্থনিতীতে

অঞ্চলটির বেশিরভাগ দেশের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোই ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় অর্থনীতিকে আরও সহনশীল করতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদন ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট: ট্যাক্সিং টাইমস’ আজ বুধবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপের কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়াবে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এটি ৪ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হলেও পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে।

আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস পাওয়ায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার থেকেও কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এটি আরও কমে ২ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।

ভুটানে কৃষি খাতে দুর্বলতার কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জলবিদ্যুৎ নির্মাণ খাতে গতি আসায় এটি ৭ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

মালদ্বীপে নতুন বিমানবন্দর টার্মিনাল উদ্বোধনের ফলে ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। তবে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

নেপালে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এটি ৫ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈদেশিক চাপ ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব কাটিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাকিস্তানে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

ঋণ পুনর্গঠনের অগ্রগতির কারণে ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে ২০২৬ সালে এটি কিছুটা কমে ৩ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার বলেন, ‘গত এক দশকে একাধিক ধাক্কা অঞ্চলটি দুর্বল করে দিয়েছে। এখনই সময় বাণিজ্যের দ্বার উন্মুক্ত করা, কৃষি খাত আধুনিকীকরণ এবং বেসরকারি খাত আরও সক্রিয় করে দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার।’

প্রতিবেদন অনুসারে, টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঘরোয়া রাজস্ব বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। যদিও দক্ষিণ এশিয়ায় করের হার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কিন্তু প্রকৃত কর আদায় অনেক কম। ২০১৯-২০২৩ সময়কালে দক্ষিণ এশিয়ার গড় সরকারি রাজস্ব ছিল জিডিপির মাত্র ১৮ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে এটি ২৪ শতাংশ।

কর রাজস্ব এখনো জিডিপির তুলনায় ১ থেকে ৭ শতাংশ কম, যা মূলত অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি ও কৃষি খাতের আধিপত্যের কারণে। তবে এসব বিষয় বিবেচনায় নিলেও কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে, যা কর ব্যবস্থাপনা ও নীতিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওন্সর্জ বলেন, ‘নিম্ন রাজস্ব দক্ষিণ এশিয়ার আর্থিক দুর্বলতার মূল কারণ এবং এটি অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিবেশে স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।’

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে কর ব্যবস্থায় সংস্কার, ফাঁকফোকর বন্ধ, কর বিধিমালা সরলীকরণ, কর আদায়ে প্রযুক্তি ব্যবহার, কর অব্যাহতি হ্রাস এবং দূষণমূল্য আরোপ করার মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা।