ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী

বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্বে নতুন গতি: অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যে যুগান্তকারী সম্ভাবনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
  • / 329

ছবি সংগৃহীত

 

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। এ বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক চীন সফরের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং বলেন, “এখন সময় চুক্তির অপেক্ষা নয়, বরং তা বাস্তবায়নের।” তিনি জানান, চীনের শীর্ষ পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং এ মুহূর্তে পারস্পরিক সম্পর্ককে বাস্তবভিত্তিক রূপ দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার হলো পরিকল্পনার গতি ধরে রাখা। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, যা আলোচনা হয়েছে তা থেমে না গিয়ে বাস্তবে রূপ নিক।”

বৈঠকে মোংলা ও আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন, চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কেনার অগ্রগতি, এবং স্বাস্থ্যখাতে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামে একটি বার্ন ইউনিট স্থাপন এবং কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ১০০ সদস্যের একটি বিনিয়োগ প্রতিনিধি দল আসবে, যারা নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করবেন। বিডার চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, খাতভিত্তিক চীনা বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে একটি ক্ষুদ্র বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন করা হবে।

বৈঠকে কৃষি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়। চীনে এ বছর থেকেই বাংলাদেশের আম রপ্তানি শুরু হচ্ছে, আগামী বছর কাঁঠালও যুক্ত হবে। ইউনূস বলেন, “আমি নিজেই রাষ্ট্রপতি শি’র কাছে এক ঝুড়ি তাজা আম পাঠাব।”

তিনি চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুরে লোকোমোটিভ উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ইউনূস একটি চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন, যাতে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম সাংস্কৃতিক বন্ধনে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।

বৈঠকে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় ৫০ বছর মেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের বিষয়েও দুই পক্ষ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিউর রহমান, মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্বে নতুন গতি: অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যে যুগান্তকারী সম্ভাবনা

আপডেট সময় ০৯:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

 

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। এ বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক চীন সফরের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং বলেন, “এখন সময় চুক্তির অপেক্ষা নয়, বরং তা বাস্তবায়নের।” তিনি জানান, চীনের শীর্ষ পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং এ মুহূর্তে পারস্পরিক সম্পর্ককে বাস্তবভিত্তিক রূপ দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন  শনিবার শীর্ষ বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন: বাণিজ্য যুদ্ধ নিরসনে নতুন উদ্যোগ

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার হলো পরিকল্পনার গতি ধরে রাখা। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, যা আলোচনা হয়েছে তা থেমে না গিয়ে বাস্তবে রূপ নিক।”

বৈঠকে মোংলা ও আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন, চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কেনার অগ্রগতি, এবং স্বাস্থ্যখাতে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামে একটি বার্ন ইউনিট স্থাপন এবং কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ১০০ সদস্যের একটি বিনিয়োগ প্রতিনিধি দল আসবে, যারা নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করবেন। বিডার চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, খাতভিত্তিক চীনা বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে একটি ক্ষুদ্র বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন করা হবে।

বৈঠকে কৃষি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়। চীনে এ বছর থেকেই বাংলাদেশের আম রপ্তানি শুরু হচ্ছে, আগামী বছর কাঁঠালও যুক্ত হবে। ইউনূস বলেন, “আমি নিজেই রাষ্ট্রপতি শি’র কাছে এক ঝুড়ি তাজা আম পাঠাব।”

তিনি চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুরে লোকোমোটিভ উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ইউনূস একটি চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন, যাতে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম সাংস্কৃতিক বন্ধনে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।

বৈঠকে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় ৫০ বছর মেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের বিষয়েও দুই পক্ষ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিউর রহমান, মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা।