ঢাকা ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

ধামরাইয়ে একই পরিবারের ৩ জনের লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • / 598

ছবি সংগৃহীত

 

 

ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ জুন) বিকেল ৩টার দিকে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মা ও তার দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন  পুলিশের মনোবল ফিরেছে, আইনশৃঙ্খলায় রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিহতরা হলেন রক্ষিত গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নার্গিস আক্তার (৪৫), তার বড় ছেলে মো. শামীম (১৮) এবং ছোট ছেলে মো. সোলাইমান (৭)। স্বামী রাজা মিয়া এক বছর আগে স্ট্রোক করে মারা গেলে নার্গিস দুই ছেলেকে নিয়ে একাই বসবাস করছিলেন। বড় মেয়ে বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন।

সোমবার সকাল থেকে নার্গিস আক্তারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ না করতে পেরে তার মেয়ে বাড়িতে এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে বিছানার ওপর তিনজনের নিথর দেহ দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানানো হলে ধামরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

কক্ষের ভেতর থেকে রান্না করা ভাত ও ডিম ভাজি পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তারা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের আগে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর নার্গিস কিছুদিন পারিবারিক ডেকোরেটর ব্যবসা চালিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক সংকটে পড়ে সেটি বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে পরিবারটি অভাব-অনটনের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছিল।

তিনি বলেন, “তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। কেউ কারও সঙ্গে শত্রুতা করত বলেও জানা যায়নি।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর কবির সাংবাদিকদের জানান, মরদেহ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে শোক ও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে। তিনটি প্রাণ একই পরিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনা গোটা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ধামরাইয়ে একই পরিবারের ৩ জনের লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

আপডেট সময় ০৭:০১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

 

 

ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ জুন) বিকেল ৩টার দিকে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মা ও তার দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন  বর্ষবরণে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রসঙ্গে যা বললেন প্রেসসচিব

নিহতরা হলেন রক্ষিত গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নার্গিস আক্তার (৪৫), তার বড় ছেলে মো. শামীম (১৮) এবং ছোট ছেলে মো. সোলাইমান (৭)। স্বামী রাজা মিয়া এক বছর আগে স্ট্রোক করে মারা গেলে নার্গিস দুই ছেলেকে নিয়ে একাই বসবাস করছিলেন। বড় মেয়ে বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন।

সোমবার সকাল থেকে নার্গিস আক্তারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ না করতে পেরে তার মেয়ে বাড়িতে এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে বিছানার ওপর তিনজনের নিথর দেহ দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানানো হলে ধামরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

কক্ষের ভেতর থেকে রান্না করা ভাত ও ডিম ভাজি পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তারা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের আগে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর নার্গিস কিছুদিন পারিবারিক ডেকোরেটর ব্যবসা চালিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক সংকটে পড়ে সেটি বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে পরিবারটি অভাব-অনটনের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছিল।

তিনি বলেন, “তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। কেউ কারও সঙ্গে শত্রুতা করত বলেও জানা যায়নি।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর কবির সাংবাদিকদের জানান, মরদেহ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে শোক ও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে। তিনটি প্রাণ একই পরিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনা গোটা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।