ঢাকা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

মিরসরাইয়ে সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত সরকারের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 627

ছবি: সংগৃহীত

 

সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশে সমরাস্ত্র উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এই কারখানা গড়ে তোলা হবে, যেখানে আগে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জমি বরাদ্দ ছিল।

সোমবার বিকেলে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির উদ্যোগে কারখানাটি স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিডার মাস্টার প্ল্যানে ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৪টি কারখানা বন্ধ, ৯ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে পাওনা পরিশোধ

আশিক চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে দেখা গেছে, আধুনিক অস্ত্রের চেয়ে গোলাবারুদ ও মৌলিক সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতিই বেশি সংকট তৈরি করছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ হাইটেক বা অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদনে যাচ্ছে না। মূলত সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী গুলি, গোলাবারুদ এবং ট্যাংকসহ সামরিক যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে। চুক্তি সম্পন্ন হলে উৎপাদন কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

কারখানাটি যে জমিতে হবে, সেটি আগে ‘ইন্ডিয়ান ইকোনমিক জোন’-এর জন্য বরাদ্দ ছিল। ওই প্রকল্প বাতিল হওয়ায় প্রায় ৮০০ একর জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল, যা এখন প্রতিরক্ষা শিল্পে কাজে লাগানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সাড়ে ৬০০ একর জমিতে একটি ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই জোনে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা উৎপাদন, কাঁচামাল সংরক্ষণ এবং পুনঃরপ্তানির সুযোগ পাবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংস্কার করা হবে।

এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বিডা ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের সভায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সভাগুলোতে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিনিয়োগ কার্যক্রম সহজ করতে বিডা, বেপজা, বেজা, বিসিক, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষ—এই ছয়টি সংস্থাকে একীভূত করে একটি সংস্থায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি আগামী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘ক্যাশব্যাক’ সুবিধা চালুর সিদ্ধান্তও জানানো হয়। এফডিআই স্কিমের আওতায় কোনো বাংলাদেশি বিদেশি বিনিয়োগ আনলে বিনিয়োগের ১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান।
এ ছাড়া চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বিডার এজেন্সি অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব অফিসের ব্যয় বহন করবে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিষ্ঠান, আর বাংলাদেশে আনা বিনিয়োগের বিপরীতে তারা কমিশন পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিরসরাইয়ে সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত সরকারের

আপডেট সময় ০৮:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশে সমরাস্ত্র উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এই কারখানা গড়ে তোলা হবে, যেখানে আগে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জমি বরাদ্দ ছিল।

সোমবার বিকেলে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির উদ্যোগে কারখানাটি স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিডার মাস্টার প্ল্যানে ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  আজ থেকে পোশাক কারখানায় কোন গ্যাস সংকট থাকবে না : জ্বালানি উপদেষ্টা

আশিক চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে দেখা গেছে, আধুনিক অস্ত্রের চেয়ে গোলাবারুদ ও মৌলিক সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতিই বেশি সংকট তৈরি করছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ হাইটেক বা অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদনে যাচ্ছে না। মূলত সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী গুলি, গোলাবারুদ এবং ট্যাংকসহ সামরিক যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে। চুক্তি সম্পন্ন হলে উৎপাদন কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

কারখানাটি যে জমিতে হবে, সেটি আগে ‘ইন্ডিয়ান ইকোনমিক জোন’-এর জন্য বরাদ্দ ছিল। ওই প্রকল্প বাতিল হওয়ায় প্রায় ৮০০ একর জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল, যা এখন প্রতিরক্ষা শিল্পে কাজে লাগানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সাড়ে ৬০০ একর জমিতে একটি ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই জোনে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা উৎপাদন, কাঁচামাল সংরক্ষণ এবং পুনঃরপ্তানির সুযোগ পাবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংস্কার করা হবে।

এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বিডা ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের সভায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সভাগুলোতে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিনিয়োগ কার্যক্রম সহজ করতে বিডা, বেপজা, বেজা, বিসিক, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষ—এই ছয়টি সংস্থাকে একীভূত করে একটি সংস্থায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি আগামী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘ক্যাশব্যাক’ সুবিধা চালুর সিদ্ধান্তও জানানো হয়। এফডিআই স্কিমের আওতায় কোনো বাংলাদেশি বিদেশি বিনিয়োগ আনলে বিনিয়োগের ১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান।
এ ছাড়া চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বিডার এজেন্সি অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব অফিসের ব্যয় বহন করবে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিষ্ঠান, আর বাংলাদেশে আনা বিনিয়োগের বিপরীতে তারা কমিশন পাবে।