রোনালদোকে ছাড়াই ডেনমার্ককে হারাল পর্তুগাল
- আপডেট সময় ০৩:৫৮:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 26
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আকস্মিকভাবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পরও মাঠের পারফরম্যান্সে তার কোনো প্রভাব পড়েনি বলে মনে করছে পর্তুগাল। বৃহস্পতিবার কোপেনহেগেনে স্বাগতিক ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগে নিজেদের জয়ের ধারা ধরে রেখেছে দলটি। ম্যাচ শেষে কোচ জর্জ জেসুস জানিয়েছেন, দলের খেলোয়াড়েরা তার পরিকল্পনা ও ভাবনার প্রতি আস্থাশীল।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো বুধবার পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে যান। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে জেসুস জানিয়েছিলেন, টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও ৪১ বছর বয়সী এই তারকাকে বেঞ্চে রেখে একাদশ সাজাবেন তিনি। এ ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো।
তবে কোপেনহেগেনের মাঠে রোনালদোর অনুপস্থিতি পর্তুগালের খেলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। বরং আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবলে ডেনমার্ককে হারিয়ে নেশনস লিগে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
দল তার পাশে আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জেসুস স্পোর্ট টিভিকে বলেন, ‘এমন কিছু নেই, যা দলকে আমার সঙ্গে থাকা থেকে আটকাতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমি প্রশ্নটা বুঝতে পারছি। আসল কথা হলো, আমাদের কী করতে হবে। যা ঘটছে, তা দলে বিভেদ তৈরি করছে না। এখন পর্যন্ত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’
রোনালদো আবার দলে ফিরতে চাইলে তাকে স্বাগত জানাবেন কি না, ম্যাচের পর এমন প্রশ্নের মুখেও পড়েন পর্তুগাল কোচ। তবে এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে দলের পারফরম্যান্সকেই গুরুত্ব দেন তিনি।
জেসুস বলেন, ‘চার গোলের মানসম্পন্ন জয়, উঁচু মানের পারফরম্যান্স। এটা উপেক্ষা করা যায় না। যা ঘটেছে, তার সবকিছুর চেয়ে এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি এটার ওপরই মনোযোগ দিতে চাই। পর্তুগালে ফিরে দ্রাগাও স্টেডিয়ামেও ছেলেরা লড়াই করবে।’
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর রবের্তো মার্তিনেসের স্থলাভিষিক্ত হন জেসুস। তার অধীনে ডেনমার্কের বিপক্ষে এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে গেল পর্তুগাল।
দলের খেলোয়াড়দের আস্থা নিয়ে আরটিপিকে জেসুস বলেন, ‘আমার দলের সবাই আমার ভাবনায় বিশ্বাস করে। এত ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকলে কাজ সহজ হয়। তারা আমার সঙ্গে ও আমার ধারণার পাশেই আছে।’
রোনালদোর জায়গায় টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পর্তুগালের আক্রমণভাগে খেলেছেন এসি মিলানের স্ট্রাইকার গনসালো রামোস। কোচের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে ডেনমার্কের বিপক্ষে একটি গোলে সহায়তা করার পাশাপাশি নিজেও গোল করেছেন তিনি। দুই ম্যাচে এটি তার দ্বিতীয় গোল।
নতুন কোচের অধীনে দলের উন্নতির বিষয়ে রামোস বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, নতুন কোচ আমাদের অনেক সাহায্য করছেন। আমাদের ধারণা এখন আরও পরিষ্কার। রক্ষণে ও আক্রমণে সতীর্থরা ঠিক কোথায় আছে, তা আমরা জানি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের খেলায় তা দেখা গেছে। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতেও দেখা গেছে। আমরা প্রতিদিন ভালো হচ্ছি। এটা একটা প্রক্রিয়ার অংশ। আবারও একটি ভালো দলের বিপক্ষে পাওয়া এই জয়ে আমরা খুব খুশি।’
কোচের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মিডফিল্ডার ভিতিনিয়াও। ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে জোয়াও ফেলিক্সের গোলে নিশ্চিত হয় দলের জয়।
দলের পারফরম্যান্সের উন্নতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের হয়ে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা ভিতিনিয়া বলেন, ‘এটা কোচের কাজ। আমরা দুর্দান্ত খেলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, জয়ের বাইরেও আমাদের খেলার মান ছিল দারুণ। এখন পর্যন্ত এটাই আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। এই তিন ম্যাচে আমরা ক্রমে ভালো হচ্ছি। আর সত্যি হলো, কোচের সঙ্গে যত সময় কাটাচ্ছি, তার ধারণা তত বেশি আত্মস্থ করছি।’
রোনালদোর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভিতিনিয়া বলেন, ‘আমরা শুধু খেলার ওপর মনোযোগ রাখার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয়, আমরা অসাধারণ জবাব দিয়েছি। পুরো দলকে অভিনন্দন।’
ম্যাচের আগে জেসুস জানিয়েছিলেন, রোনালদোকে ঘিরে পর্দার আড়ালে কী ঘটেছে, তা নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলবেন না। রোববার নিজেদের মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্তুগালের চলতি আন্তর্জাতিক সূচি শেষ হবে। এরপর এ বিষয়ে কথা বলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ডিফেন্ডার রেনাতো ভেইগার বক্তব্যেও বোঝা গেছে, রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনা নিয়ে দলের সদস্যদের প্রকাশ্যে কথা না বলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ক্রিসের খুব কাছের। সে জানে, আমি তাকে কতটা সম্মান করি। কিন্তু আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাই এ নিয়ে কথা বলতে পারব না।’























