ডারউইন টেস্টে তৃতীয় দিন শেষে চালকের আসনে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ১৬১/৪
- আপডেট সময় ০৬:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 20
ডারউইন টেস্টে তৃতীয় দিন শেষে চালকের আসনে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করানোর পর দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বাগতিকদের চাপে রেখেছে বাংলাদেশের বোলাররা। শনিবার, ১৫ আগস্ট দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।
তৃতীয় দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। দিনের খেলায় আরও ৭৫ রান যোগ করে ৪২৬ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। দলের বড় সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি করেন ৬৫ রান। তাঁর সঙ্গে নিচের দিকে তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের ব্যাটিংও বাংলাদেশকে চারশ ছাড়াতে সহায়তা করে।
দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভাঙেন জশ হ্যাজলউড। তাঁর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৬৫ রান করা মিরাজ। এই উইকেটটি ছিল হ্যাজলউডের ইনিংসে পঞ্চম। মিরাজকে ফেরানোর সঙ্গে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার।
শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন হ্যাজলউড। ইনিংসে তাঁর শিকার ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক নেন ২ উইকেট। প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন পান একটি করে উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪২৭ রান করেছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ইনিংসে বড় অবদান রাখেন তানজিদ হাসান তামিম, যিনি সেঞ্চুরি করেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৪ রান। এ ছাড়া মুমিনুল হকের ৪৯, মুশফিকুর রহিমের ৩৬ এবং মিরাজের ৬৫ রান বাংলাদেশের সংগ্রহকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুতেই স্বাগতিকদের চাপে ফেলেন। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন তিনি। জেক ওয়েদেরাল্ড কোনো রান না করেই এবং ট্রাভিস হেড ১৭ রান করে তাঁর শিকার হন।
৩৭ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে তৃতীয় উইকেটে সাময়িক স্বস্তি দেন মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ। তবে দলীয় ৭৩ রানে লাবুশেনকে ফিরিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। তাঁর ঘূর্ণিতে বোল্ড হওয়ার আগে ৫৯ বলে দুই চারের সাহায্যে ৩১ রান করেন লাবুশেন।
এরপর ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করা এই ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটির পথে এগোচ্ছিলেন। তবে তাঁকে ৫০ ছুঁতে দেননি মিরাজ।
নিজের বলে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্মিথের ক্যাচ নেন মিরাজ। ফলে ৮৮ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ৪৪ রানেই থামে স্মিথের ইনিংস। ১২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
দিনের বাকি সময়ে আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। তাঁদের ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করে স্বাগতিকরা। গ্রিন ৮৬ বলে দুই চারে ৪৩ এবং ক্যারি ৫০ বলে তিন চারে ১৯ রানে অপরাজিত আছেন।
অস্ট্রেলিয়ার হাতে এখনো ছয় উইকেট থাকলেও বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ম্যাচ জয়ের বড় সুযোগ। আরও দুই দিন খেলা বাকি। চতুর্থ দিনে দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার বাকি ছয় উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের পথ সহজ করাই এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে প্রায় দুই দশকের ইতিহাসে বাংলাদেশ দুই টেস্ট ও ছয় ওয়ানডে খেললেও কোনো জয় পায়নি। ডারউইন টেস্টে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ এখন বাংলাদেশের সামনে।

























