‘জামায়াতকে এদেশের মানুষ কোনো দিন ক্ষমতায় আনবে না’: মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় ০৪:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / 79
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি স্বাধীনতাবিরোধী দল এবং এই দলকে এদেশের সচেতন মানুষ কোনো দিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনবে না বলে তীব্র দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক বিশাল সংবর্ধনা ও স্বাগত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর দ্রুত চালুর দৃঢ় আশ্বাস দেন এবং জেলার সার্বিক উন্নয়নে একাধিক মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, একই মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সফল মো. বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কখনো দেশের সংস্কারের বিরুদ্ধে নয়, বরং ঐতিহাসিক জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি ধর্মের নামে রাজনীতি করা কিছু গোষ্ঠীর সমালোচনা করে বলেন, “ধর্মের নামে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ফায়দা লুটতে চায়। কিন্তু এভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে রাজনীতি করা যাবে না। জনগণের ভোট ও প্রকৃত মর্যাদা পেতে হলে সত্য কথা বলতে হবে।”
জামায়াতের অতীত ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার চরম বিরোধিতা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে এবং মা-বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে; তাই এদেশের মানুষ তাদের কখনোই ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের হাত ধরে দেশ আজ নতুন এক রাজনৈতিক দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
বহুল প্রতীক্ষিত ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে এই বিমানবন্দরটি চালুর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের ‘সবুজ পাতায়’ (অনুমোদন প্রক্রিয়া) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) তাঁর বক্তব্যে বলেন, তড়িঘড়ি করে কোনো কাজ না করে একটি স্থায়ী ও কার্যকর বিমানবন্দর অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার দিনরাত পরিশ্রম করছে। প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও আগামী দুই বছরের মধ্যে এর কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে সকালে ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ছাদ ঢালাই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি সবসময় বলেছিলাম এটি আমার শেষ নির্বাচন, আমি আবারও বলছি এটিই হয়তো আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। আপনাদের এই সন্তানকে আপনারা কখনো বিমুখ করেননি, বিপুল ভোটে বারবার নির্বাচিত করেছেন। তাই মরার আগে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো আমি অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করতে চাই।”
ঠাকুরগাঁও জেলার ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব আরও ঘোষণা করেন যে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভেঙে আরও দুটি নতুন উপজেলা গঠনের সরকারি অনুমতি পাওয়া গেছে। এছাড়া জেলার দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি—একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে। খুব দ্রুতই এসব মেগা প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিমানবন্দর চালু এবং নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের এই ঐতিহাসিক ঘোষণায় ঠাকুরগাঁওসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশা ও আনন্দের জোয়ার বইছে।

























