ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :

জ্বালানি সংকট কাটাতে সমন্বিত উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 13

ছবি সংগৃহীত

 

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, নতুন গ্যাসক্ষেত্র খোঁজা এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

আরও পড়ুন  শীর্ষক প্রস্তাবে জামায়াতের সমর্থন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে সীমা আনার পক্ষে অধিকাংশ দল

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানির ওপর বেশি নির্ভরতার কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

তিনি জানান, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে।

এ ছাড়া বর্তমানে আরও সাতটি কূপ খননের কাজ চলছে। এগুলোর কাজ শেষ হলে প্রতিদিন আরও প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। বাকি কূপগুলোও পর্যায়ক্রমে খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন গ্যাসের উৎস খুঁজতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাইসমিক জরিপ চালানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার এলাকায় ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক জরিপ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানের সক্ষমতা বাড়াতে বাপেক্সের জন্য আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন নীতিমালার আওতায় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এলএনজি আমদানির অবকাঠামো বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। সরকার আশা করছে, ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে এই টার্মিনালের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

নতুন টার্মিনালের মাধ্যমে প্রতিদিন আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পায়রা, মোংলা বা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আরও এক বা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।

সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি সংকট কাটাতে সমন্বিত উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, নতুন গ্যাসক্ষেত্র খোঁজা এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

আরও পড়ুন  বৈদেশিক ঋণের বোঝা কমিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানির ওপর বেশি নির্ভরতার কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

তিনি জানান, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে।

এ ছাড়া বর্তমানে আরও সাতটি কূপ খননের কাজ চলছে। এগুলোর কাজ শেষ হলে প্রতিদিন আরও প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। বাকি কূপগুলোও পর্যায়ক্রমে খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন গ্যাসের উৎস খুঁজতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাইসমিক জরিপ চালানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার এলাকায় ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক জরিপ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানের সক্ষমতা বাড়াতে বাপেক্সের জন্য আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন নীতিমালার আওতায় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এলএনজি আমদানির অবকাঠামো বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। সরকার আশা করছে, ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে এই টার্মিনালের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

নতুন টার্মিনালের মাধ্যমে প্রতিদিন আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পায়রা, মোংলা বা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আরও এক বা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।

সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।