ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বন্যার ক্ষতিপূরণ দাবি নেপালের
- আপডেট সময় ০৫:২২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 18
ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে নেপাল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রেখেও নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাই বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর এসব ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া দায়িত্ব।
বাগমতী প্রদেশের কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা ভোতেকোশি নদীর বন্যায় অন্তত ১ হাজার ১২৭ জন নিহত এবং প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে বড় ধরনের পাথর ও বরফ ধস থেকে এই বন্যার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষতিপূরণের দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ‘বালেন’ শাহকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে নেপাল। দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, শাহের নিউইয়র্ক সফরের প্রস্তাব বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল কান্তিপুর টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা আমাদের কূটনৈতিক কাঠামোকে সহায়তা থেকে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দিকে পরিবর্তন করছি।’
তিনি বলেন, রাসুয়ার এই দুর্যোগকে কেবল মানবিক সংকট হিসেবে দেখলে হবে না। বড় শিল্পোন্নত অর্থনীতিগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়াকে দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে।
খানালের ভাষায়, ‘এটি দাতব্যের বিষয় নয়; এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।’
চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে বিশ্বের তিন বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, নেপালের মতো দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব এসব দেশের রয়েছে।
তবে মোট নির্গমনের হিসাবে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় নির্গমনকারী হলেও দেশটির মাথাপিছু ও ঐতিহাসিক কার্বন নির্গমন উন্নত দেশগুলোর তুলনায় কম। ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৪ সালের EDGAR হিসাব অনুযায়ী, মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের দিক থেকে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বিশ্বের শীর্ষ তিন দেশ। মাথাপিছু হিসাবে ভারতে প্রায় ৩ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)-সমতুল্য নির্গমন হয়। চীনে এই পরিমাণ প্রায় ১১ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ টনের বেশি।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, জলবায়ু সংক্রান্ত দায়িত্ব নির্ধারণে ঐতিহাসিক ও মাথাপিছু নির্গমন, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং আগে শিল্পায়িত হয়ে এর সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর বাড়তি দায়িত্ব বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। এতে নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
নেপাল এই দুর্যোগকে ‘হিমালয়ান সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকেই বন্যার সূত্রপাত হয়েছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটা, তা নিশ্চিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।
প্রাথমিক মূল্যায়নে পাথর ও বরফের ধস, অস্থিতিশীল হিমবাহ এবং হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনকে বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এই এলাকায় বন্যার ঘটনায় ভঙ্গুর হিমালয় অঞ্চলে চীনের নির্মিত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বেড়েছে।
নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে গত সপ্তাহে রয়টার্সকে বলেন, বন্যায় ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে নেপালের ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এই অর্থ দেশটির মোট অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান।
জরুরি আর্থিক সহায়তা পেতে নেপাল জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদনও করেছে।























