ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :

হরমুজ সংকটে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বাতিল রাখছে কাতার এনার্জি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 12

ছবি সংগৃহীত

 

হরমুজ প্রণালিতে চলমান নিরাপত্তা সংকটের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতি নভেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার এনার্জি। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে প্রতিষ্ঠানটির এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম আরও কিছুদিন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  জ্বালানি সংকটের মুখে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভুলে আবারও রাশিয়ার দ্বারস্থ হয়েছে ভারত।

কাতার এনার্জির এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ছে এশিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা দেশের ওপর। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও এর মধ্যে রয়েছে।

‘ফোর্স মেজর’ হলো এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে চুক্তিবদ্ধ কোনো পক্ষ সাময়িকভাবে চুক্তির শর্ত পূরণে অক্ষম হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়ানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কাতার এনার্জির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে, পাকিস্তানকেও জানানো হয়েছে যে এলএনজি কার্গো বাতিলের পরিস্থিতি অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ইউরোপের কয়েকটি ক্রেতা দেশও একই ধরনের নোটিস পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিকল্প উৎসে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা বাড়িয়েছে পেট্রোবাংলা।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে মূল্য বেশি হলেও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে পেট্রোবাংলা দুই কার্গো এলএনজি কিনেছে, যার প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ২৪ ডলারের বেশি পড়েছে।

এলএনজি সরবরাহে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকাও সম্প্রসারণ করছে পেট্রোবাংলা। বর্তমানে ২৯টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। নতুন করে আরও নয়টি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং সংকটের সময় দ্রুত বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাপকভাবে কমেছে কাতারের রপ্তানি

বৈশ্বিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইসিসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫০৯টি কার্গো।

রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় কাতারের গ্যাস বিক্রি থেকে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ

জ্বালানি বাজার নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইইএফএর তথ্য অনুযায়ী, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথভাবে পাকিস্তানের এলএনজি আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ, বাংলাদেশের ৭২ শতাংশ এবং ভারতের ৫৩ শতাংশ সরবরাহ করে।

ফলে এই অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।

সরবরাহ ঘাটতির কারণে ভারত শিল্প খাতে এলএনজি ব্যবহারে বরাদ্দ সীমিত করেছে। বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত এলএনজি কিনছে, আর পাকিস্তান জরুরি গ্যাস ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ সংকটে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বাতিল রাখছে কাতার এনার্জি

আপডেট সময় ১২:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

হরমুজ প্রণালিতে চলমান নিরাপত্তা সংকটের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতি নভেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার এনার্জি। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে প্রতিষ্ঠানটির এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম আরও কিছুদিন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  জ্বালানিখাতের সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা

কাতার এনার্জির এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ছে এশিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা দেশের ওপর। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও এর মধ্যে রয়েছে।

‘ফোর্স মেজর’ হলো এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে চুক্তিবদ্ধ কোনো পক্ষ সাময়িকভাবে চুক্তির শর্ত পূরণে অক্ষম হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়ানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কাতার এনার্জির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে, পাকিস্তানকেও জানানো হয়েছে যে এলএনজি কার্গো বাতিলের পরিস্থিতি অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ইউরোপের কয়েকটি ক্রেতা দেশও একই ধরনের নোটিস পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিকল্প উৎসে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা বাড়িয়েছে পেট্রোবাংলা।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে মূল্য বেশি হলেও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে পেট্রোবাংলা দুই কার্গো এলএনজি কিনেছে, যার প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ২৪ ডলারের বেশি পড়েছে।

এলএনজি সরবরাহে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকাও সম্প্রসারণ করছে পেট্রোবাংলা। বর্তমানে ২৯টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। নতুন করে আরও নয়টি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং সংকটের সময় দ্রুত বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাপকভাবে কমেছে কাতারের রপ্তানি

বৈশ্বিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইসিসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫০৯টি কার্গো।

রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় কাতারের গ্যাস বিক্রি থেকে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ

জ্বালানি বাজার নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইইএফএর তথ্য অনুযায়ী, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথভাবে পাকিস্তানের এলএনজি আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ, বাংলাদেশের ৭২ শতাংশ এবং ভারতের ৫৩ শতাংশ সরবরাহ করে।

ফলে এই অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।

সরবরাহ ঘাটতির কারণে ভারত শিল্প খাতে এলএনজি ব্যবহারে বরাদ্দ সীমিত করেছে। বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত এলএনজি কিনছে, আর পাকিস্তান জরুরি গ্যাস ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।