ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্দিদের গুলি করে পেট কেটে নদীতে ফেলতেন জিয়াউল আহসান, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:২০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক গুম-খুনের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। তার দাবি, ২০১০ ও ২০১১ সালে র‍্যাবের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান মাঝরাতে বন্দিদের নিয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় যেতেন। সেখানে বন্দিদের গুলি করে হত্যার পর লাশের পেটে কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আব্বাস মল্লিক। বেঞ্চে ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আরও পড়ুন  মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখাল ট্রাইব্যুনাল

সাক্ষ্যে আব্বাস মল্লিক বলেন, এলাকায় অভিযান চালানোর দিন বিকালে সাদা পোশাকে দুই র‍্যাব সদস্য স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ করে বাতি নিভিয়ে রাখার নির্দেশ দিতেন। রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‍্যাবের চার থেকে পাঁচটি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে এসে থামত। সেখান থেকে চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের এনে ট্রলারে তোলা হতো। ট্রলার ছাড়ার সময় র‍্যাব সদস্যরা রশি ও সিমেন্টের বস্তা সঙ্গে নিতেন।

তার জবানবন্দি অনুযায়ী, বন্দিদের নিয়ে ট্রলার বলেশ্বর নদীর গভীর পানির দিকে যেত। সেখানে ট্রলারের গতি কমিয়ে চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের বের করে আনা হতো। ট্রলারের দুই পাশে থাকা সাপোর্ট অংশে দুই র‍্যাব সদস্য বন্দিকে চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান এসে বন্দির মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন বলে সাক্ষ্যে দাবি করেন আব্বাস।

তিনি বলেন, গুলি করার পর মৃতদেহের গলা অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। লাশ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে দেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।

আব্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু বন্দিকে পরে সুন্দরবনে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যার পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা সাজানো হতো। এরপর সাংবাদিকদের ডেকে এনে থানায় লাশ হস্তান্তর করা হতো বলেও ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পর বরফ মিলে ফিরে এলে মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন আব্বাস মল্লিক।

ট্রাইব্যুনালে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। আব্বাস জানান, আলকাছের দুটি ট্রলার ছিল এবং তিনি র‍্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। তবে র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে বাজারে আলোচনা করায় স্থানীয় কয়েকজন বোট মালিক তাকে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, র‍্যাব তার ওপর ক্ষুব্ধ।

সাক্ষ্যে তিনি বলেন, ২০১১ সালের মাঝামাঝি একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ। র‍্যাবের পক্ষ থেকে ফোন করে তাকে জানানো হয়েছিল, ‘জিয়া স্যার’ তাকে বটতলা মানিকখালীতে ডেকেছেন। ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকে আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ভাইয়ের খোঁজে খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকার র‍্যাব কার্যালয়ে গেলেও কোনো তথ্য পাননি বলে জানান আব্বাস। পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও পুলিশ জিয়াউল আহসান ও র‍্যাবের নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বলে সাক্ষ্যে দাবি করেন তিনি।

জবানবন্দির শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে সরাসরি শনাক্ত করেন আব্বাস মল্লিক। একই সঙ্গে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজের ঘটনায় বিচার দাবি করেন তিনি।চাইলে এটিকে আরও ট্রাইব্যুনাল-কেন্দ্রিক ও অনুসন্ধানী নিউজের ঢঙেও সাজিয়ে দিতে পারি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বন্দিদের গুলি করে পেট কেটে নদীতে ফেলতেন জিয়াউল আহসান, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

আপডেট সময় ০৩:২০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক গুম-খুনের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। তার দাবি, ২০১০ ও ২০১১ সালে র‍্যাবের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান মাঝরাতে বন্দিদের নিয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় যেতেন। সেখানে বন্দিদের গুলি করে হত্যার পর লাশের পেটে কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আব্বাস মল্লিক। বেঞ্চে ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আরও পড়ুন  ঢাকায় সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন, গাজীপুরের ৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

সাক্ষ্যে আব্বাস মল্লিক বলেন, এলাকায় অভিযান চালানোর দিন বিকালে সাদা পোশাকে দুই র‍্যাব সদস্য স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ করে বাতি নিভিয়ে রাখার নির্দেশ দিতেন। রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‍্যাবের চার থেকে পাঁচটি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে এসে থামত। সেখান থেকে চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের এনে ট্রলারে তোলা হতো। ট্রলার ছাড়ার সময় র‍্যাব সদস্যরা রশি ও সিমেন্টের বস্তা সঙ্গে নিতেন।

তার জবানবন্দি অনুযায়ী, বন্দিদের নিয়ে ট্রলার বলেশ্বর নদীর গভীর পানির দিকে যেত। সেখানে ট্রলারের গতি কমিয়ে চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের বের করে আনা হতো। ট্রলারের দুই পাশে থাকা সাপোর্ট অংশে দুই র‍্যাব সদস্য বন্দিকে চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান এসে বন্দির মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন বলে সাক্ষ্যে দাবি করেন আব্বাস।

তিনি বলেন, গুলি করার পর মৃতদেহের গলা অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। লাশ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে দেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।

আব্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু বন্দিকে পরে সুন্দরবনে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যার পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা সাজানো হতো। এরপর সাংবাদিকদের ডেকে এনে থানায় লাশ হস্তান্তর করা হতো বলেও ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পর বরফ মিলে ফিরে এলে মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন আব্বাস মল্লিক।

ট্রাইব্যুনালে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। আব্বাস জানান, আলকাছের দুটি ট্রলার ছিল এবং তিনি র‍্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। তবে র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে বাজারে আলোচনা করায় স্থানীয় কয়েকজন বোট মালিক তাকে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, র‍্যাব তার ওপর ক্ষুব্ধ।

সাক্ষ্যে তিনি বলেন, ২০১১ সালের মাঝামাঝি একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ। র‍্যাবের পক্ষ থেকে ফোন করে তাকে জানানো হয়েছিল, ‘জিয়া স্যার’ তাকে বটতলা মানিকখালীতে ডেকেছেন। ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকে আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ভাইয়ের খোঁজে খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকার র‍্যাব কার্যালয়ে গেলেও কোনো তথ্য পাননি বলে জানান আব্বাস। পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও পুলিশ জিয়াউল আহসান ও র‍্যাবের নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বলে সাক্ষ্যে দাবি করেন তিনি।

জবানবন্দির শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে সরাসরি শনাক্ত করেন আব্বাস মল্লিক। একই সঙ্গে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজের ঘটনায় বিচার দাবি করেন তিনি।চাইলে এটিকে আরও ট্রাইব্যুনাল-কেন্দ্রিক ও অনুসন্ধানী নিউজের ঢঙেও সাজিয়ে দিতে পারি।