ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বৈদেশিক ঋণের বোঝা কমিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 22

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগের সরকারের সময় নেওয়া অপরিকল্পিত ও লোকদেখানো ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’-এর বৈদেশিক ঋণ এখন জাতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই সংকটকে অজুহাত না বানিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর নীতি এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সরকার অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিল। দুর্নীতি, লুটপাট ও ভুল নীতির কারণে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এমন অনেক প্রকল্পে দেশি-বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছিল, যেগুলো থেকে কোনো রাজস্ব আসে না। ফলে এখন বাড়তি অর্থ ব্যয় করে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জাতিকে এর বোঝা বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন  তারেক রহমানই দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী: মির্জা ফখরুল

তিনি আরও বলেন, অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, পুঁজিবাজারে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে পড়েছিল এবং টাকার মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সরকার এসব বাস্তবতা অস্বীকার করছে না, তবে সংকটকে অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করতে চায় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে সরকারের মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং জনগণের কল্যাণে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। এই নীতিকে সামনে রেখেই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি এবারের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর অন্যতম লক্ষ্য অর্থনীতিকে সীমিত কিছু সুবিধাভোগীর প্রভাবমুক্ত করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাজেটে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র, নিম্নআয় ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফরেও অর্থনীতি ও বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু অর্থনীতির গতি ধরে রাখা নয়, বরং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তা আরও গতিশীল করা।

উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষি ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি হবে, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবেন, উদ্যোক্তারা হয়রানিমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারবেন এবং আমানতকারীরা তাদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

এর আগে বাজেটের ওপর বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। পরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পিকারের অনুমতি নিয়ে সংসদে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বিরোধী দলের সংসদীয় আসনগুলোতে, সিটি করপোরেশন এলাকা বাদ দিয়ে, প্রায় ২০ কোটি টাকা মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বৈদেশিক ঋণের বোঝা কমিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৬:০৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগের সরকারের সময় নেওয়া অপরিকল্পিত ও লোকদেখানো ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’-এর বৈদেশিক ঋণ এখন জাতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই সংকটকে অজুহাত না বানিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর নীতি এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সরকার অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিল। দুর্নীতি, লুটপাট ও ভুল নীতির কারণে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এমন অনেক প্রকল্পে দেশি-বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছিল, যেগুলো থেকে কোনো রাজস্ব আসে না। ফলে এখন বাড়তি অর্থ ব্যয় করে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জাতিকে এর বোঝা বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন  মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য: টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, পুঁজিবাজারে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে পড়েছিল এবং টাকার মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সরকার এসব বাস্তবতা অস্বীকার করছে না, তবে সংকটকে অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করতে চায় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে সরকারের মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং জনগণের কল্যাণে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। এই নীতিকে সামনে রেখেই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি এবারের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর অন্যতম লক্ষ্য অর্থনীতিকে সীমিত কিছু সুবিধাভোগীর প্রভাবমুক্ত করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাজেটে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র, নিম্নআয় ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফরেও অর্থনীতি ও বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু অর্থনীতির গতি ধরে রাখা নয়, বরং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তা আরও গতিশীল করা।

উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষি ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি হবে, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবেন, উদ্যোক্তারা হয়রানিমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারবেন এবং আমানতকারীরা তাদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

এর আগে বাজেটের ওপর বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। পরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পিকারের অনুমতি নিয়ে সংসদে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বিরোধী দলের সংসদীয় আসনগুলোতে, সিটি করপোরেশন এলাকা বাদ দিয়ে, প্রায় ২০ কোটি টাকা মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।