হরিয়ান ট্রেনের ওয়াগন থেকে তেল চু/রি, ভিডিও দেখে পরিচয় সনাক্ত
- আপডেট সময় ০৩:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 14
রাজশাহীর হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনে ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত ওয়াগন থেকে তেল চুরির অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ট্রেনটির তিন মিনিটের যাত্রাবিরতির সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তেল চুরির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হরিয়ান স্টেশনে ট্রেনটি ধীরে চলার সময় কয়েকজন যুবক ওয়াগন থেকে তেল নামাচ্ছেন। জগ দিয়ে তেল তুলে জারে ঢালার পর তা নিচে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মাত্র তিন মিনিটের যাত্রাবিরতির সময় এই তৎপরতা শুরু হয়। এমনকি ট্রেন চলতে শুরু করার পরও কয়েকজনকে তেল নিয়ে নামতে দেখা যায়। তবে কত পরিমাণ তেল চুরি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ঢাকাগামী ট্রেনগুলোর পাওয়ার কারে তেল দেওয়ার জন্য ওয়াগনগুলো আনা হয়েছিল। তেল দেওয়ার পর দুটি ওয়াগন ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পরে ওয়াগন দুটি ঈশ্বরদীতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
লোকাল ট্রেন হওয়ায় ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ হরিয়ান স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। সেই সুযোগে ওয়াগন থেকে তেল চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় তেল চুরির ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে তেল চুরির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় হরিয়ান বাজারের হায়দার আলী নামের এক ব্যক্তি চুরি করা তেল কেনেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার তেল চুরির সময় তার ছেলেকেও ঘটনাস্থলে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
তেল চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে রিপন, মিলন, নাহিদ, আল-আমিন, রক্সি, হিরু, কিরন, নয়ন ও মনোয়ারের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে আল-আমিনের বাড়ি হরিয়ান বাজার এলাকায়, নাহিদের বাড়ি সাজীপাড়ায় এবং রিপনের বাড়ি হরিয়ানের রূপসী ডাঙ্গা এলাকায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। রক্সি, হিরু, কিরন, মিলন, নয়ন ও মনোয়ার হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বলেও স্থানীয়দের দাবি।
তবে স্থানীয়দের দেওয়া এসব নামের সবাই তেল চুরির সঙ্গে জড়িত কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত তদন্তের মাধ্যমে তাদের সবার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেনি।
অভিযোগ ওঠা রিপন বলেন, তিনি প্ল্যাটফর্ম দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তেল চুরির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তাকে ভিডিওতে দেখা গেছে জানানো হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আর ফোন ধরেননি।
অভিযুক্ত ওয়েম্যান কিরন আলী বলেন, তেল নেওয়ার ঘটনায় তার মতো দেখতে তার ছোট ভাই নয়ন আলী ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন এলাকায় কাজ করছিলেন বলে দাবি করেন।
হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার আরিফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ ট্রেনটি হরিয়ান স্টেশনে মাত্র তিন মিনিট দাঁড়ায়। ওই সময় পাবনা থেকে ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেন আসছিল। সেটির সঙ্গে ট্রেনের ক্রসিং নিয়ে তিনি ব্যস্ত ছিলেন। তার ভাষ্য, ওই সময়ই তেল চুরির ঘটনা ঘটে। এসব দেখভালের জন্য রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশ রয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আরএনবির চিফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম বলেন, তেল চুরির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওটি তারা দেখেছেন এবং এতে জড়িতদের চেনা যাচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হবে। অভিযুক্তদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, তারা তেল চুরির ভিডিওটি দেখেছেন। এ বিষয়ে রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ের ভেতরের বা বাইরের যারাই এ ঘটনায় জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















