ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :

এলডিসি উত্তরণের পরও ৯২% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাজ্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 31

ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য। এই সুবিধার আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকও থাকবে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

সারাহ কুক বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের পণ্যের জন্য পরবর্তী তিন বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকবে। এরপরও ৯২ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বহাল থাকবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আরও পড়ুন  ইউক্রেনকে রক্ষা করতে যুক্তরাজ্যের ‘কোয়ালিশন অব উইলিং’ জোট গড়ার আহ্বান

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশ একটি কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অংশীদার। দুই দেশের সম্পর্ক এখন আরও আধুনিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন। দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক এই অংশীদারত্বের অন্যতম ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী দেশ। অর্থ খাত, ফ্যাশন, শিক্ষা ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় যুক্তরাজ্যের প্রধান লক্ষ্য হলো এই প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করা বলে জানান সারাহ কুক। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমকে বিশ্বের অন্যতম সহজ ও উদার বাণিজ্য সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিরাপত্তা অংশীদারত্ব। পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে এ সহযোগিতা গড়ে উঠেছে। অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের দায়িত্ব ও ভূমিকার বিষয়টিও যুক্তরাজ্য স্বীকার করে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে দুই দেশ।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, এ সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখা এবং একমাত্র টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যেতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিস্থিতি অনুকূল হলে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই সেই সমাধান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এমন একটি চ্যালেঞ্জ, যেখানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের স্বার্থ অভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বাস্তবতা বাংলাদেশের চেয়ে ভালোভাবে খুব কম দেশই বোঝে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশের মানুষের কাছে এখন আর তাত্ত্বিক বিষয় নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ইতোমধ্যে এর প্রভাব অনুভব করছে এবং এর প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এলডিসি উত্তরণের পরও ৯২% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাজ্য

আপডেট সময় ০৬:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য। এই সুবিধার আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকও থাকবে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

সারাহ কুক বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের পণ্যের জন্য পরবর্তী তিন বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকবে। এরপরও ৯২ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বহাল থাকবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাজ্য–নরওয়ের মধ্যে ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশ একটি কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অংশীদার। দুই দেশের সম্পর্ক এখন আরও আধুনিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন। দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক এই অংশীদারত্বের অন্যতম ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী দেশ। অর্থ খাত, ফ্যাশন, শিক্ষা ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় যুক্তরাজ্যের প্রধান লক্ষ্য হলো এই প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করা বলে জানান সারাহ কুক। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমকে বিশ্বের অন্যতম সহজ ও উদার বাণিজ্য সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিরাপত্তা অংশীদারত্ব। পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে এ সহযোগিতা গড়ে উঠেছে। অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের দায়িত্ব ও ভূমিকার বিষয়টিও যুক্তরাজ্য স্বীকার করে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে দুই দেশ।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, এ সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখা এবং একমাত্র টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যেতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিস্থিতি অনুকূল হলে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই সেই সমাধান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এমন একটি চ্যালেঞ্জ, যেখানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের স্বার্থ অভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বাস্তবতা বাংলাদেশের চেয়ে ভালোভাবে খুব কম দেশই বোঝে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশের মানুষের কাছে এখন আর তাত্ত্বিক বিষয় নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ইতোমধ্যে এর প্রভাব অনুভব করছে এবং এর প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।