ঢাকা ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :

হাইপারসনিক মিসাইলের পরীক্ষা চালাল উ: কোরিয়া

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 26

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নতুন একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই এবং সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৩ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জের কৌশলগত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশটির পূর্ব উপকূলের নির্ধারিত একটি লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে।

ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং দেশের ডিটারেন্ট বাহিনীর কার্যকারিতা ও গতিশীলতা মূল্যায়নও এই মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে কেসিএনএ।

আরও পড়ুন  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে কাতারে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েন

পরীক্ষার সময় কিম জং উন বলেন, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্রের কার্যকারিতা ও ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিপক্ষকে অবহিত রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধের সক্ষমতা অর্জন অপরিহার্য এবং এ নীতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষার অংশ হিসেবে সর্বশেষ এই পরীক্ষা চালানো হলো। গত মাসে ডেমিলিটারাইজড জোনে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার এক সেনা আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এদিকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎক্ষেপণ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ট্র্যাকিং সক্ষমতা নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে। উত্তর কোরিয়ার শাসক দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং দাবি করেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে দেশ দুটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, উৎক্ষেপণের পরপরই ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিবিধি সঠিকভাবে শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তাদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে কার্যকর সামরিক ব্যবহারের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হাইপারসনিক মিসাইলের পরীক্ষা চালাল উ: কোরিয়া

আপডেট সময় ০৬:২৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নতুন একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই এবং সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৩ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জের কৌশলগত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশটির পূর্ব উপকূলের নির্ধারিত একটি লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে।

ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং দেশের ডিটারেন্ট বাহিনীর কার্যকারিতা ও গতিশীলতা মূল্যায়নও এই মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে কেসিএনএ।

আরও পড়ুন  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে কাতারে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েন

পরীক্ষার সময় কিম জং উন বলেন, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্রের কার্যকারিতা ও ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিপক্ষকে অবহিত রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধের সক্ষমতা অর্জন অপরিহার্য এবং এ নীতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষার অংশ হিসেবে সর্বশেষ এই পরীক্ষা চালানো হলো। গত মাসে ডেমিলিটারাইজড জোনে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার এক সেনা আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এদিকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎক্ষেপণ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ট্র্যাকিং সক্ষমতা নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে। উত্তর কোরিয়ার শাসক দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং দাবি করেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে দেশ দুটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, উৎক্ষেপণের পরপরই ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিবিধি সঠিকভাবে শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তাদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে কার্যকর সামরিক ব্যবহারের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।