রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৮:২৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / 8
রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ, দ্রুত এবং টেকসই সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার, ৮ জুলাই জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধানে পূর্বের সফল কূটনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতায় কাজ করছে। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সফল হয়েছিল।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও সেই নীতির আলোকে টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছে এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউএনএইচসিআর, ইউএন উইমেন ও ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এ সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের মানবিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আয়োজন করা হয় এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণসমূহ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত। তাই সেখানে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ও আলোচনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের কার্যক্রমও চলমান আছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সমাধান অনেকাংশে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা, স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার উচ্চ পর্যায়ের জাতীয় কমিটি ও ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সসম্মানে স্বদেশে ফিরিয়ে দিতে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।






















