ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

২০ মাস নিখোঁজ বেবিচকের সেই সহকারী পরিচালক বরখাস্ত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 131

ছবি সংগৃহীত

 

মাত্র ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে দীর্ঘ ২০ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (সিএনএস) মো. আরিফ-উর-রহমানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

দফায় দফায় বিচিত্র অজুহাত ও কৌশলের আশ্রয় নিয়ে কর্মস্থলে না ফিরে তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় অনুমতিহীন অনুপস্থিতি ও অসদাচরণের অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে এই চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  কারা অধিদপ্তরে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কঠোর শাস্তি: চাকরিচ্যুত ১২, বরখাস্ত ৮৪ কর্মকর্তা

বেবিচক সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট স্ত্রীর উচ্চশিক্ষায় সহায়তার কথা বলে ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান আরিফ-উর-রহমান।

তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি সেখান থেকে আরও সাড়ে তিন মাস সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করেন। এরপর গত দেড় বছরে তিনি কখনও সন্তানের চিকিৎসা, কখনও শিক্ষা ছুটির দোহাই দিয়ে একের পর এক অসামঞ্জস্যপূর্ণ আবেদন পাঠিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন।

বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বারবার কাজে ফেরার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বরং পলাতক থেকে সরাসরি বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বিভিন্ন সময়ে তার দেওয়া আবেদন ও অবস্থান ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তিনি চাকরিতে ফেরার বিষয়ে মোটেও আন্তরিক ছিলেন না।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেবিচক জানতে পেরেছে, বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় অবস্থান করছেন। তদন্তের পুরো সময় জুড়ে তিনি চরম অসহযোগিতা করেছেন এবং দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করার নিয়ম থাকলেও তা মানেননি। সব দিক বিবেচনা করে এবং সংস্থার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত ২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

২০ মাস নিখোঁজ বেবিচকের সেই সহকারী পরিচালক বরখাস্ত

আপডেট সময় ১০:১১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

 

মাত্র ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে দীর্ঘ ২০ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (সিএনএস) মো. আরিফ-উর-রহমানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

দফায় দফায় বিচিত্র অজুহাত ও কৌশলের আশ্রয় নিয়ে কর্মস্থলে না ফিরে তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় অনুমতিহীন অনুপস্থিতি ও অসদাচরণের অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে এই চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  কারা অধিদপ্তরে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কঠোর শাস্তি: চাকরিচ্যুত ১২, বরখাস্ত ৮৪ কর্মকর্তা

বেবিচক সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট স্ত্রীর উচ্চশিক্ষায় সহায়তার কথা বলে ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান আরিফ-উর-রহমান।

তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি সেখান থেকে আরও সাড়ে তিন মাস সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করেন। এরপর গত দেড় বছরে তিনি কখনও সন্তানের চিকিৎসা, কখনও শিক্ষা ছুটির দোহাই দিয়ে একের পর এক অসামঞ্জস্যপূর্ণ আবেদন পাঠিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন।

বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বারবার কাজে ফেরার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বরং পলাতক থেকে সরাসরি বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বিভিন্ন সময়ে তার দেওয়া আবেদন ও অবস্থান ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তিনি চাকরিতে ফেরার বিষয়ে মোটেও আন্তরিক ছিলেন না।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেবিচক জানতে পেরেছে, বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় অবস্থান করছেন। তদন্তের পুরো সময় জুড়ে তিনি চরম অসহযোগিতা করেছেন এবং দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করার নিয়ম থাকলেও তা মানেননি। সব দিক বিবেচনা করে এবং সংস্থার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত ২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।