ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
উত্তর আমেরিকা ২৩ দেশের বৈচিত্র্য, শক্তি ও সংস্কৃতির মহাদেশ হিলি বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, পাসপোর্টযাত্রী পারাপার স্বাভাবিক কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ: শিবগঞ্জে শিক্ষামন্ত্রী ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন: বর্ষবরণ ও হালখাতার বিবর্তন ও প্রাসঙ্গিকতা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য: টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী ইসলামাবাদে ফের আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, শুক্রবার শুরুর সম্ভাবনা পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম, প্রাণ গেল কলেজছাত্রী দিয়ার ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র আশঙ্কা শোভাযাত্রার মোটিফ আটকে গেল মেট্রো ভবনে পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চোখের দৃষ্টি হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে? জেনে নিন ৫টি বিপজ্জনক লক্ষণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 164

ছবি সংগৃহীত

 

অনেকেই দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়াকে ক্লান্তি, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা বা ঘুমের অভাব বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি হঠাৎ করে এক চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, তবে সেটিকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অনেক সময় এটি চোখের বা শরীরের গুরুতর কোনো রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে ভবিষ্যতে স্থায়ী দৃষ্টিহীনতার ঝুঁকি থাকে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, দৃষ্টির আকস্মিক পরিবর্তন শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বড় কোনো সমস্যার সতর্কবার্তা হতে পারে।

আরও পড়ুন  শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হাম, সতর্ক না হলে বিপদ

কখন ঝাপসা দৃষ্টি বিপদের সংকেত?

যদি কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, তবে সেটি বড় কোনো ঝুঁকির লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নিচের কারণগুলোতে এমনটা ঘটতে পারে। যেমন—

১. রেটিনাল ডিটাচমেন্ট : চোখের রেটিনা স্থানচ্যুত হওয়া।

২. চোখে স্ট্রোক : রেটিনার ধমনিতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া।

৩. অপটিক নিউরাইটিস : চোখের স্নায়ুর প্রদাহ।

৪. অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা : চোখের চাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া।

৫. মস্তিষ্কে স্ট্রোক : কখনও কখনও চোখের সমস্যা আসলে চোখের নয়, বরং মস্তিষ্কের হয়। মস্তিষ্কের যে অংশ দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে দুই চোখের বা এক চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে।

নিজে ডাক্তারি নয়, প্রয়োজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ 

সব ক্ষেত্রে দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া বিপজ্জনক নাও হতে পারে। অনেক সময় চোখ শুষ্ক হওয়া, মাইগ্রেন, রক্তে শর্করার ওঠানামা কিংবা চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের কারণেও এমন হতে পারে। তবে সমস্যা হলো, একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন কোনটি সাধারণ আর কোনটি জরুরি অবস্থা। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজে রোগ নির্ণয় না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন?

যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা রক্তনালির সমস্যা রয়েছে, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে হঠাৎ ঝাপসা দেখা মস্তিষ্কে স্ট্রোকের লক্ষণও হতে পারে। যদি ঝাপসা দেখার সঙ্গে হাত-পা দুর্বল লাগা, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ থাকে, তবে কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে যেতে হবে।

যে লক্ষণগুলো কখনোই উপেক্ষা করবেন না

১. চোখে তীব্র ব্যথা বা লালচে ভাব।

২. আলোর ঝলকানি বা চোখের সামনে ভাসমান কালো দাগ দেখা।

৩. তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে বমি ভাব।

৪. হঠাৎ এক চোখে দেখার ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলা।

৫. শরীরের একদিকে দুর্বলতা বা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া।

কেন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন?

চিকিৎসায় দেরি হলে চোখের ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইমেজিং পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত রেটিনার সমস্যা বা স্নায়ুর প্রদাহ শনাক্ত করা সম্ভব। সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই শরীরের দেওয়া এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

চোখের দৃষ্টি হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে? জেনে নিন ৫টি বিপজ্জনক লক্ষণ

আপডেট সময় ১১:৩২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

অনেকেই দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়াকে ক্লান্তি, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা বা ঘুমের অভাব বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি হঠাৎ করে এক চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, তবে সেটিকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অনেক সময় এটি চোখের বা শরীরের গুরুতর কোনো রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে ভবিষ্যতে স্থায়ী দৃষ্টিহীনতার ঝুঁকি থাকে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, দৃষ্টির আকস্মিক পরিবর্তন শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বড় কোনো সমস্যার সতর্কবার্তা হতে পারে।

আরও পড়ুন  শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হাম, সতর্ক না হলে বিপদ

কখন ঝাপসা দৃষ্টি বিপদের সংকেত?

যদি কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, তবে সেটি বড় কোনো ঝুঁকির লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নিচের কারণগুলোতে এমনটা ঘটতে পারে। যেমন—

১. রেটিনাল ডিটাচমেন্ট : চোখের রেটিনা স্থানচ্যুত হওয়া।

২. চোখে স্ট্রোক : রেটিনার ধমনিতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া।

৩. অপটিক নিউরাইটিস : চোখের স্নায়ুর প্রদাহ।

৪. অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা : চোখের চাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া।

৫. মস্তিষ্কে স্ট্রোক : কখনও কখনও চোখের সমস্যা আসলে চোখের নয়, বরং মস্তিষ্কের হয়। মস্তিষ্কের যে অংশ দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে দুই চোখের বা এক চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে।

নিজে ডাক্তারি নয়, প্রয়োজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ 

সব ক্ষেত্রে দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া বিপজ্জনক নাও হতে পারে। অনেক সময় চোখ শুষ্ক হওয়া, মাইগ্রেন, রক্তে শর্করার ওঠানামা কিংবা চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের কারণেও এমন হতে পারে। তবে সমস্যা হলো, একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন কোনটি সাধারণ আর কোনটি জরুরি অবস্থা। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজে রোগ নির্ণয় না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন?

যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা রক্তনালির সমস্যা রয়েছে, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে হঠাৎ ঝাপসা দেখা মস্তিষ্কে স্ট্রোকের লক্ষণও হতে পারে। যদি ঝাপসা দেখার সঙ্গে হাত-পা দুর্বল লাগা, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ থাকে, তবে কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে যেতে হবে।

যে লক্ষণগুলো কখনোই উপেক্ষা করবেন না

১. চোখে তীব্র ব্যথা বা লালচে ভাব।

২. আলোর ঝলকানি বা চোখের সামনে ভাসমান কালো দাগ দেখা।

৩. তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে বমি ভাব।

৪. হঠাৎ এক চোখে দেখার ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলা।

৫. শরীরের একদিকে দুর্বলতা বা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া।

কেন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন?

চিকিৎসায় দেরি হলে চোখের ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইমেজিং পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত রেটিনার সমস্যা বা স্নায়ুর প্রদাহ শনাক্ত করা সম্ভব। সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই শরীরের দেওয়া এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিন।