ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

গাজা সীমান্তের কাছে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণে ইসরাইলের পরিকল্পনা, বাড়ছে উত্তেজনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
  • / 295

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরাইল গাজা সীমান্তের অদূরে দক্ষিণাঞ্চলীয় নেভাতিম শহরে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক কমিটি সম্প্রতি এই প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়েছে, যা পার্লামেন্টে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

নতুন বিমানবন্দরটির প্রস্তাবিত স্থান গাজা সীমান্ত থেকে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার দূরে, সড়কপথে এক ঘণ্টার যাত্রা। এই অঞ্চলেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, যেখানে অবস্থান করছে ইসরাইলের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। ওই ঘাঁটিটিকে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ঘটনা এখনো স্মরণে রয়েছে।

আরও পড়ুন  "গাজা কেনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ" -ট্রাম্প

প্রস্তাব অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি নির্মাণে সময় লাগবে প্রায় সাত বছর এবং এটি বছরে দেড় কোটিরও বেশি যাত্রী পরিবহনে সক্ষম হবে। বর্তমানে ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দর তেল আবিবের বেন গুরিয়ন প্রতি বছর প্রায় চার কোটি যাত্রী সামাল দিলেও ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ কারণেই নতুন বিমানবন্দরটি শুধু যাত্রীচাপ কমাতে নয়, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে দেশটির সরকার। বিশেষ করে এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় বেদুইন সম্প্রদায়ের অন্তত ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে প্রকল্পটি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্কও। সেনাঘাঁটির খুব কাছাকাছি বিমানবন্দর নির্মাণে ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবুও নেতানিয়াহু প্রশাসন নিরাপত্তা আপত্তি উপেক্ষা করেই প্রকল্পটিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন স্পর্শকাতর এলাকায় বেসামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত ইসরাইলের ভেতরেই রাজনৈতিক ও কৌশলগত উত্তেজনা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকাকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটি নতুন মাত্রাও যোগ করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজা সীমান্তের কাছে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণে ইসরাইলের পরিকল্পনা, বাড়ছে উত্তেজনা

আপডেট সময় ১০:২৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

 

ইসরাইল গাজা সীমান্তের অদূরে দক্ষিণাঞ্চলীয় নেভাতিম শহরে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক কমিটি সম্প্রতি এই প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়েছে, যা পার্লামেন্টে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

নতুন বিমানবন্দরটির প্রস্তাবিত স্থান গাজা সীমান্ত থেকে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার দূরে, সড়কপথে এক ঘণ্টার যাত্রা। এই অঞ্চলেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, যেখানে অবস্থান করছে ইসরাইলের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। ওই ঘাঁটিটিকে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ঘটনা এখনো স্মরণে রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইসরাইলের বিরুদ্ধে ১০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি এরদোয়ানের

প্রস্তাব অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি নির্মাণে সময় লাগবে প্রায় সাত বছর এবং এটি বছরে দেড় কোটিরও বেশি যাত্রী পরিবহনে সক্ষম হবে। বর্তমানে ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দর তেল আবিবের বেন গুরিয়ন প্রতি বছর প্রায় চার কোটি যাত্রী সামাল দিলেও ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ কারণেই নতুন বিমানবন্দরটি শুধু যাত্রীচাপ কমাতে নয়, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে দেশটির সরকার। বিশেষ করে এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় বেদুইন সম্প্রদায়ের অন্তত ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে প্রকল্পটি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্কও। সেনাঘাঁটির খুব কাছাকাছি বিমানবন্দর নির্মাণে ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবুও নেতানিয়াহু প্রশাসন নিরাপত্তা আপত্তি উপেক্ষা করেই প্রকল্পটিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন স্পর্শকাতর এলাকায় বেসামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত ইসরাইলের ভেতরেই রাজনৈতিক ও কৌশলগত উত্তেজনা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকাকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটি নতুন মাত্রাও যোগ করতে পারে।