ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

সানায় হামলার জবাবে সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / 21

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের সানা প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় প্রাণহানির ঘটনার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। এর মধ্যেই সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

রোববার (৮ নভেম্বর) ভোরে জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালকি জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার সানা প্রদেশের আল-শারিয়া গ্রামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। হুতি বিদ্রোহীদের অভিযোগ, হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলাকালে আরও দুই দফা হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার পরই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন  রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার তীব্রতা, দুই পক্ষেই হতাহত

হুতিদের দাবি, সৌদি আরবের ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, খুরাইস ও দাওয়াদমি এলাকায় সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা এবং সীমান্তবর্তী কয়েকটি সামরিক অবস্থান। এসব অভিযানে সৌদি সেনাদের হতাহত হওয়ার দাবিও করেছে তারা।

হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ছয়টি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। তাঁর দাবি, প্রথম অভিযানটি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তেলের মজুত ট্যাংক এবং সৌদি আরামকোর একটি ডিস্টিলেশন টাওয়ার লক্ষ্য করে চালানো হয় এবং তা লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করা হয় খুরাইসে অবস্থিত আরামকোর স্থাপনায়।

তবে হুতিদের এসব হামলার দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে রিয়াদ প্রদেশের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

এদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করছে সিরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সিরিয়ার কয়েক ডজন সামরিক সদস্য সৌদি আরবে গেছেন। সেখানে তাঁরা সৌদি ও ইয়েমেনি সেনাদের যুদ্ধের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়াতে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তবে ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে দামেস্ক।

নিউজটি শেয়ার করুন

সানায় হামলার জবাবে সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের

আপডেট সময় ১২:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের সানা প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় প্রাণহানির ঘটনার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। এর মধ্যেই সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

রোববার (৮ নভেম্বর) ভোরে জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালকি জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার সানা প্রদেশের আল-শারিয়া গ্রামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। হুতি বিদ্রোহীদের অভিযোগ, হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলাকালে আরও দুই দফা হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার পরই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন  ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ১০ জনের মৃত্যু, পাল্টা হুঁশিয়ারি পুতিনের

হুতিদের দাবি, সৌদি আরবের ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, খুরাইস ও দাওয়াদমি এলাকায় সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা এবং সীমান্তবর্তী কয়েকটি সামরিক অবস্থান। এসব অভিযানে সৌদি সেনাদের হতাহত হওয়ার দাবিও করেছে তারা।

হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ছয়টি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। তাঁর দাবি, প্রথম অভিযানটি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তেলের মজুত ট্যাংক এবং সৌদি আরামকোর একটি ডিস্টিলেশন টাওয়ার লক্ষ্য করে চালানো হয় এবং তা লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করা হয় খুরাইসে অবস্থিত আরামকোর স্থাপনায়।

তবে হুতিদের এসব হামলার দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে রিয়াদ প্রদেশের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

এদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করছে সিরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সিরিয়ার কয়েক ডজন সামরিক সদস্য সৌদি আরবে গেছেন। সেখানে তাঁরা সৌদি ও ইয়েমেনি সেনাদের যুদ্ধের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়াতে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তবে ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে দামেস্ক।