ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট নিয়ে নতুন নির্দেশনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 46

ছবি: সংগৃহীত

মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া সড়কে মোটরযান চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্সধারীদের জন্য মোটরযান চালানোর ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাসে পরিবর্তন এনে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা সংশোধন করেছে সরকার।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিআরটিএর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিআরটিএর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষানবিশ লাইসেন্সধারীরা কেবল বৈধ প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সময় মোটরযান চালাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে বড় আকারের লাল রঙের ‘L’ চিহ্ন রাখতে হবে।

আরও পড়ুন  শৃঙ্খলা জোরদারে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা: সব জেলায় চিঠি

মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ চালককে সড়কে গাড়ি চালানোর সময় সামনে ও পেছনে স্পষ্টভাবে লাল রঙের বড় ‘L’ লেখা চিহ্ন বা বোর্ড রাখতে হয়। ‘L’ মূলত Learner শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এর মাধ্যমে অন্য চালকেরা বুঝতে পারেন, সংশ্লিষ্ট যানটি একজন শিক্ষানবিশ চালাচ্ছেন। ফলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা সহজ হয়।

এদিকে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে সরকার। এ জন্য সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকরের কথা জানানো হয়েছে।

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট-সংক্রান্ত অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন নিয়মে মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি এক লাইনে প্রদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণ করবে বিআরটিএ।

এ ছাড়া নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের পরিচিতি নির্দেশক অক্ষরের আকার এবং যানবাহনের শ্রেণি বোঝাতে ব্যবহৃত অক্ষরের উচ্চতাও নির্ধারণ করতে পারবে সংস্থাটি। পাশাপাশি নম্বরপ্লেটের ফাঁকা জায়গা, সংখ্যার মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং দ্বিতীয় লাইনে ব্যবহৃত হাইফেনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

এক লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশক অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নম্বরপ্লেটে বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের বিষয়টিও সংশোধিত বিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে নম্বরপ্লেট শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।

প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির সংশ্লিষ্ট উপবিধিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশোধনের পেছনে মোটরসাইকেলের নকশাগত ভিন্নতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, সব মডেলের মোটরসাইকেলের সামনের অংশের গঠন এক নয়। ফলে প্রচলিত মাপের নম্বরপ্লেট অনেক ক্ষেত্রে স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন বিধানের মাধ্যমে মোটরসাইকেলের কাঠামো অনুযায়ী নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কে যানবাহন শনাক্ত করা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহন পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

সড়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরা নজরদারির আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট নিয়ে নতুন নির্দেশনা

আপডেট সময় ১২:৩০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া সড়কে মোটরযান চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্সধারীদের জন্য মোটরযান চালানোর ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাসে পরিবর্তন এনে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা সংশোধন করেছে সরকার।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিআরটিএর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিআরটিএর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষানবিশ লাইসেন্সধারীরা কেবল বৈধ প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সময় মোটরযান চালাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে বড় আকারের লাল রঙের ‘L’ চিহ্ন রাখতে হবে।

আরও পড়ুন  পুলিশকে একসঙ্গে বিশ্রাম বা চা বিরতিতে না যাওয়ার নির্দেশনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ চালককে সড়কে গাড়ি চালানোর সময় সামনে ও পেছনে স্পষ্টভাবে লাল রঙের বড় ‘L’ লেখা চিহ্ন বা বোর্ড রাখতে হয়। ‘L’ মূলত Learner শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এর মাধ্যমে অন্য চালকেরা বুঝতে পারেন, সংশ্লিষ্ট যানটি একজন শিক্ষানবিশ চালাচ্ছেন। ফলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা সহজ হয়।

এদিকে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে সরকার। এ জন্য সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকরের কথা জানানো হয়েছে।

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট-সংক্রান্ত অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন নিয়মে মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি এক লাইনে প্রদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণ করবে বিআরটিএ।

এ ছাড়া নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের পরিচিতি নির্দেশক অক্ষরের আকার এবং যানবাহনের শ্রেণি বোঝাতে ব্যবহৃত অক্ষরের উচ্চতাও নির্ধারণ করতে পারবে সংস্থাটি। পাশাপাশি নম্বরপ্লেটের ফাঁকা জায়গা, সংখ্যার মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং দ্বিতীয় লাইনে ব্যবহৃত হাইফেনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

এক লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশক অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নম্বরপ্লেটে বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের বিষয়টিও সংশোধিত বিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে নম্বরপ্লেট শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।

প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির সংশ্লিষ্ট উপবিধিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশোধনের পেছনে মোটরসাইকেলের নকশাগত ভিন্নতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, সব মডেলের মোটরসাইকেলের সামনের অংশের গঠন এক নয়। ফলে প্রচলিত মাপের নম্বরপ্লেট অনেক ক্ষেত্রে স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন বিধানের মাধ্যমে মোটরসাইকেলের কাঠামো অনুযায়ী নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কে যানবাহন শনাক্ত করা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহন পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

সড়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরা নজরদারির আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।