ইরানের সব এয়ারলাইন্সে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- আপডেট সময় ০১:৪৬:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 26
ইরানের সব এয়ারলাইন্সকে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যত অচল করে দিতে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি বিমানকে জ্বালানি, অবতরণ সুবিধা বা টিকিট বিক্রির মতো সেবা দিলে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ও প্রতিষ্ঠান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।
সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানি এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোনো বিমানবন্দর বা প্রতিষ্ঠান ইরানি বিমানকে প্রয়োজনীয় সেবা দিলে তাদের মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এর ফলে ইরানি বিমানগুলো বিদেশে অবতরণ করলেও জ্বালানি সংগ্রহ, ল্যান্ডিং ও অন্যান্য গ্রাউন্ড সার্ভিস এবং টিকিট বিক্রির মতো প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। মার্কিন হুমকির মূল লক্ষ্য ইরানি এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি তাদের সেবা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করা।
তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চলমান অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবেই বিমান চলাচল খাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের বিমান চলাচল খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর মধ্যে ইরানের ২৭টি এয়ারলাইন্সও ছিল।
বহু বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত চাপের মধ্যে রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশটির এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিদেশি বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড-সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ও টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার বৃহত্তর মার্কিন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে। এর আগে জ্বালানি, জাহাজ চলাচল, প্রযুক্তি ও আর্থিক লেনদেনসহ বিভিন্ন খাতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এদিকে চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় বেইজিংয়ের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হি লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই আলোচনায় ইরানের সঙ্গে চীনের আর্থিক সম্পর্ক এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের বিষয়ও উঠে এসেছে।
বেসেন্ট জানিয়েছেন, চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং দেশটির আর্থিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তবে মার্কিন ঘোষণার অর্থ ইরানের সব বিমান তাৎক্ষণিকভাবে আকাশে উড়তে পারবে না—এমন সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেবা বন্ধে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটে ইরানি এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম কঠিন করে তোলাই এ পদক্ষেপের মূল প্রভাব হতে পারে।























