শান্তি চুক্তির আলোচনার মাঝেই ইরানি ট্যাঙ্কারে মার্কিন যুদ্ধবিমানের গোলাবর্ষণ
- আপডেট সময় ০৪:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
- / 104
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অবসানে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ যখন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, ঠিক তখনই এই সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ নির্দেশনা অমান্য করায় মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে সেটিকে লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওমান উপসাগরে চলাচলকারী ওই ইরানি জাহাজটি বারবার সংকেত দেওয়ার পরও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় জাহাজটির রাডার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। তবে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতেও তেহরান কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরানের বন্দর ও সমুদ্রবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ও কারিগরি সহায়তার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হবে দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকা। বিশেষ করে ইরানের মজুতকৃত ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, উভয় দেশ বর্তমানে একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে এবং খুব শিগগিরই পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটনের কাছে পাঠাতে পারে। সম্ভাব্য এই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ওমান উপসাগরের এই সর্বশেষ হামলা শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।























