ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
জ্বালানি সংকট কাটাতে সমন্বিত উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুতের আওতায় আসছে জাতীয় সংসদ: প্রধানমন্ত্রী ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বন্যার ক্ষতিপূরণ দাবি নেপালের সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ জানালেন রিজভী এআই-এর ঝুঁকি মোকাবিলায় বিচারকদের সতর্ক থাকার আহ্বান মেধাবীদের হাত ধরেই বিশ্বসভায় নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: শিক্ষামন্ত্রী ৬ লাখ কোটি ছাড়াল খেলাপি ঋণ বন্দিদের গুলি করে পেট কেটে নদীতে ফেলতেন জিয়াউল আহসান, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দুই দেশের স্বার্থেই ভারত সফর করবেন তারেক রহমান

তুরস্ককে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রির পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / 68

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তুরস্কের কাছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের কয়েক ডজন জেট ইঞ্জিন বিক্রির পরিকল্পনা কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। তবে এ উদ্যোগকে ঘিরে কংগ্রেসের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা আপত্তি জানিয়েছেন, যা বিষয়টিকে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করেছে।

বুধবার (২৫ জুন) কংগ্রেসে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, মানবাধিকার এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ–সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার পরই রপ্তানি লাইসেন্স অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং কংগ্রেসের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এ বিক্রয়চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন  বিশ্ব এখন শি জিনপিংয়ের, ট্রাম্প কি শুধুই বাসিন্দা?

আগামী মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনের আগে এই উদ্যোগকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি ওয়াশিংটনের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এরদোয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের একজন হিসেবে বিবেচনা করছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কংগ্রেস চাইলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যৌথ প্রস্তাব এনে এই বিক্রয়চুক্তি আটকে দিতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। বিল পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকবে।

প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস এ চুক্তির বিরোধিতা করে বলেন, তুরস্কের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে প্রশাসন কংগ্রেসের উদ্বেগের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। তাঁর মতে, সরঞ্জাম সরবরাহে কয়েক বছর সময় লাগলেও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

জেট ইঞ্জিন বিক্রি, এফ-৩৫ কর্মসূচি এবং আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন প্রসঙ্গে বুধবার ট্রাম্প বলেন, তিনি সম্ভবত এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, যা তুরস্ককে সন্তুষ্ট করবে।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) নির্মিত এসব ইঞ্জিন তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ (KAAN)-এ ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও স্বনির্ভর করে তোলা।

তবে তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে ‘কান’ পুরোপুরি কার্যকর হতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে।

২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং দেশটিকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। পাশাপাশি এস-৪০০ ব্যবস্থা বহাল থাকা পর্যন্ত তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি নিষিদ্ধ করে কংগ্রেস।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) আরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেট ইঞ্জিন বিক্রির বিরোধিতা করেন। প্রতিনিধি ক্রিস পাপাশ বলেন, মার্কিন আইন লঙ্ঘনের পরও তুরস্ককে কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে প্রতিনিধি ডিনা টাইটাস জানান, প্রশাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোলে তিনি কংগ্রেসে এ বিক্রয়চুক্তি ঠেকাতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

তুরস্ককে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রির পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

আপডেট সময় ০৭:২৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তুরস্কের কাছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের কয়েক ডজন জেট ইঞ্জিন বিক্রির পরিকল্পনা কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। তবে এ উদ্যোগকে ঘিরে কংগ্রেসের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা আপত্তি জানিয়েছেন, যা বিষয়টিকে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করেছে।

বুধবার (২৫ জুন) কংগ্রেসে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, মানবাধিকার এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ–সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার পরই রপ্তানি লাইসেন্স অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং কংগ্রেসের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এ বিক্রয়চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন  মোদির সঙ্গে বন্ধুত্ব থেকে শীতল যুদ্ধ: ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

আগামী মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনের আগে এই উদ্যোগকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি ওয়াশিংটনের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এরদোয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের একজন হিসেবে বিবেচনা করছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কংগ্রেস চাইলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যৌথ প্রস্তাব এনে এই বিক্রয়চুক্তি আটকে দিতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। বিল পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকবে।

প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস এ চুক্তির বিরোধিতা করে বলেন, তুরস্কের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে প্রশাসন কংগ্রেসের উদ্বেগের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। তাঁর মতে, সরঞ্জাম সরবরাহে কয়েক বছর সময় লাগলেও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

জেট ইঞ্জিন বিক্রি, এফ-৩৫ কর্মসূচি এবং আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন প্রসঙ্গে বুধবার ট্রাম্প বলেন, তিনি সম্ভবত এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, যা তুরস্ককে সন্তুষ্ট করবে।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) নির্মিত এসব ইঞ্জিন তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ (KAAN)-এ ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও স্বনির্ভর করে তোলা।

তবে তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে ‘কান’ পুরোপুরি কার্যকর হতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে।

২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং দেশটিকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। পাশাপাশি এস-৪০০ ব্যবস্থা বহাল থাকা পর্যন্ত তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি নিষিদ্ধ করে কংগ্রেস।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) আরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেট ইঞ্জিন বিক্রির বিরোধিতা করেন। প্রতিনিধি ক্রিস পাপাশ বলেন, মার্কিন আইন লঙ্ঘনের পরও তুরস্ককে কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে প্রতিনিধি ডিনা টাইটাস জানান, প্রশাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোলে তিনি কংগ্রেসে এ বিক্রয়চুক্তি ঠেকাতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।