৬ হাজার চালক নেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত
- আপডেট সময় ০৫:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / 73
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইভিত্তিক একটি স্বনামধন্য ট্যাক্সি কোম্পানি চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে নতুন করে ৬ হাজার পেশাদার ড্রাইভার বা চালক নিয়োগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
রোববার (১৭ মে) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী-এর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে কোম্পানিটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
প্রতিনিধিদলটি জানায়, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশের প্রায় ১৫ হাজার কর্মী তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ৮ হাজার কর্মীই বাংলাদেশি।
বাংলাদেশি চালকদের সততা, কঠোর পরিশ্রম ও পেশাগত দক্ষতার কারণে তাদের কোম্পানিতে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বর্তমানে বাংলাদেশি নারী চালকেরা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ড্রাইভিং পেশায় কাজ করছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে প্রতিনিধিদলটি আরও জানায়, আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) থেকে ঢাকার ‘বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ (বিকেটিটিসি)-এ সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য বাংলাদেশি চালক বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রাথমিক এই দফায় নতুন করে ১ হাজার ৫০০ চালক নেওয়ার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলেও চলতি বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে মোট ৬ হাজার চালক নিয়োগ দেবে এই প্রতিষ্ঠান।
এই বড় সুযোগের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।”
একই সঙ্গে মন্ত্রী দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর প্রশিক্ষণকালীন সময়েও যেন কর্মীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পান, তা নিশ্চিত করতে কোম্পানির প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি চালকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের জন্যও তিনি অনুরোধ করেন।
সভায় উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক অভিবাসন ব্যয় নিয়ে বলেন, “বর্তমানে একজন বাংলাদেশি ড্রাইভারের দুবাই যেতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। যেহেতু অধিকাংশ কর্মীই দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবার থেকে আসেন, তাই তাদের চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে হয়।”
কর্মীদের এই অর্থনৈতিক কষ্টের কথা বিবেচনা করে তিনি যোগ্য চালকদের অভিবাসন ব্যয় (মাইগ্রেশন কস্ট) উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার মধ্যে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

























