ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলকে গোপনে সামরিক সহায়তা দিয়েছে ইউএই—ফাঁস হওয়া নথির দাবি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 2039

ছবি সংগৃহীত

 

গাজায় চলমান যুদ্ধের সময় ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিক, গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে লোহিত সাগর এলাকায় নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এমিরেটলিকস নামের একটি অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্মের হাতে আসা ফাঁস হওয়া নথির বরাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ক্রেডল এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নথিটি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইউএই সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের উদ্দেশে লেখা। নথিটির লেখক ছিলেন হামদান বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান। তিনি আল-দাফরা অঞ্চলের প্রতিনিধি এবং ইউএই রেড ক্রিসেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন  আজারবাইজানের বাকুতে বিরল বৈঠকে মুখোমুখি সিরিয়া ও ইসরায়েল

ফাঁস হওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়, ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সামরিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ লোহিত সাগর অঞ্চলে অবস্থিত ইউএইর বিভিন্ন ঘাঁটি ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। এর মধ্যে ইয়েমেনের আল-মোখা, ইরিত্রিয়ার মাসাওয়া ও আসাব এবং সোমালিয়ায় অবস্থিত ঘাঁটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলকে সহায়তা দিতে বিশেষভাবে ইয়েমেনসংলগ্ন দক্ষিণ লোহিত সাগরের ঘাঁটিগুলো প্রয়োজনীয় সামরিক ও লজিস্টিক সক্ষমতায় সজ্জিত করা হয়েছে। এতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযানে সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া, তথাকথিত ‘সামাজিক উদ্যোগ’ বজায় রেখে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। নথিতে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের কথা বলা হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের গোয়েন্দা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহের প্রতিশ্রুতির কথাও নথিতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নথিতে কাতারের বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলা হয় এবং কুয়েতের বিরুদ্ধেও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোকে আর্থিক সহায়তার অভিযোগ আনা হয়। এসব কর্মকাণ্ডকে ইউএইর রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির পর ইউএই ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। গাজা যুদ্ধ শুরুর পরও এই সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে এবং আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এদিকে, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইউএইভিত্তিক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি হয়েছে, যা গাজা যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি, ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমিরাতি কোম্পানিগুলোর যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে।
ফাঁস হওয়া নথির তথ্যের বিষয়ে ইউএই বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলকে গোপনে সামরিক সহায়তা দিয়েছে ইউএই—ফাঁস হওয়া নথির দাবি

আপডেট সময় ০২:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

 

গাজায় চলমান যুদ্ধের সময় ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিক, গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে লোহিত সাগর এলাকায় নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এমিরেটলিকস নামের একটি অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্মের হাতে আসা ফাঁস হওয়া নথির বরাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ক্রেডল এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নথিটি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইউএই সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের উদ্দেশে লেখা। নথিটির লেখক ছিলেন হামদান বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান। তিনি আল-দাফরা অঞ্চলের প্রতিনিধি এবং ইউএই রেড ক্রিসেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন  নতুন ফাঁস হওয়া নথিতে ইসরায়েলের সঙ্গে অ্যামাজন ও গুগলের গোপন চুক্তি উন্মোচিত

ফাঁস হওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়, ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সামরিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ লোহিত সাগর অঞ্চলে অবস্থিত ইউএইর বিভিন্ন ঘাঁটি ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। এর মধ্যে ইয়েমেনের আল-মোখা, ইরিত্রিয়ার মাসাওয়া ও আসাব এবং সোমালিয়ায় অবস্থিত ঘাঁটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলকে সহায়তা দিতে বিশেষভাবে ইয়েমেনসংলগ্ন দক্ষিণ লোহিত সাগরের ঘাঁটিগুলো প্রয়োজনীয় সামরিক ও লজিস্টিক সক্ষমতায় সজ্জিত করা হয়েছে। এতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযানে সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া, তথাকথিত ‘সামাজিক উদ্যোগ’ বজায় রেখে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। নথিতে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের কথা বলা হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের গোয়েন্দা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহের প্রতিশ্রুতির কথাও নথিতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নথিতে কাতারের বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলা হয় এবং কুয়েতের বিরুদ্ধেও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোকে আর্থিক সহায়তার অভিযোগ আনা হয়। এসব কর্মকাণ্ডকে ইউএইর রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির পর ইউএই ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। গাজা যুদ্ধ শুরুর পরও এই সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে এবং আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এদিকে, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইউএইভিত্তিক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি হয়েছে, যা গাজা যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি, ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমিরাতি কোম্পানিগুলোর যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে।
ফাঁস হওয়া নথির তথ্যের বিষয়ে ইউএই বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।