বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি জিনপিং শীর্ষ বৈঠক
- আপডেট সময় ০৯:৪৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
- / 83
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের মধ্যেই বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এর সামনে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের আগে গ্রেট হলের লাল গালিচায় শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উষ্ণ করমর্দন করতে দেখা যায়।
এর আগে গত বুধবার বিশেষ বিমানে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং পৌঁছান ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান। এ সময় দুই দেশের পতাকা হাতে সাধারণ মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। ট্রাম্পের এই সফরে তার সঙ্গে এসেছেন অ্যাপলের টিম কুক, টেসলার ইলন মাস্ক এবং ল্যারি ফিঙ্কের মতো শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বরা।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই সফরটি গত মার্চ মাসে হওয়ার কথা থাকলেও ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে তা পিছিয়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ট্রাম্প এক বক্তব্যে দাবি করেছিলেন, ইরান ইস্যুতে চীনের সহায়তার প্রয়োজন তার নেই। তবে বাণিজ্য নীতি, প্রযুক্তি বাজার এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়ে তিনি শি জিনপিংকে বিশেষ আহ্বান জানাবেন।
সফরের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক ডজনেরও বেশি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এই সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গী হয়েছেন। চীনের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সম্মানে বিশেষ নৈশভোজসহ রাজকীয় কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সফরকে ২০১৭ সালের ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সঙ্গে তুলনা করছেন। সে সময়ও তাকে নজিরবিহীন সম্মান জানিয়ে ‘নিষিদ্ধ নগরী’ সংলগ্ন এলাকায় আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

























