ইরানে সৌদি আরবের গোপন হামলা চালায়: রয়টার্স
- আপডেট সময় ১০:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 79
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, গত মার্চের শেষ দিকে ইরানের ভেতরে অত্যন্ত গোপনে সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলার জেরে সৌদি আরব এই গোপন অভিযান পরিচালনা করে। এটিই প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরানি ভূখণ্ডে সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের ঘটনা বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবও আক্রান্ত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় রিয়াদ গোপনে পাল্টা হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এই অভিযানের মাধ্যমে সৌদি আরব তাদের সামরিক সক্ষমতা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, হামলার পর সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানকে বিষয়টি অবহিত করে। এরপরই দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। রিয়াদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে সৌদি স্বার্থে কোনো ধরনের আঘাত এলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তবে এই আলোচনার পরই দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান চরম উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে শুরু করে।
এদিকে, শুধু সৌদি আরবই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধেও ইরানে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি ইরানি তেল শোধনাগারে গোপন বিমান হামলা চালায় আমিরাত। ওই হামলায় শোধনাগারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং জ্বালানি উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও ইরান সেই সময় শত্রুপক্ষের হামলার কথা নিশ্চিত করেছিল। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ইরানের এই পাল্টা আক্রমণের ফলে আমিরাতের পর্যটন, বিমান চলাচল এবং আবাসন খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা নীতিতে এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ কাটিয়ে দেশগুলো এখন সরাসরি একে অপরের ভূখণ্ডে আঘাত হানার কৌশল গ্রহণ করছে, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

























