‘নতুন তাস’ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান; ফুরিয়ে আসছে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি
- আপডেট সময় ০১:২৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / 19
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। বুধবার এই সময়সীমা শেষ হতে চললেও এখন পর্যন্ত পরবর্তী কোনো টেকসই শান্তি চুক্তির সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা মেলেনি। এই টানটান উত্তেজনার মাঝে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি যুদ্ধ পুনরায় শুরু হয় তবে তারা রণাঙ্গনে ‘নতুন তাস’ নিয়ে হাজির হবে।
ইরানের শক্তিশালী সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানিয়েছেন, “হুমকির ছায়ায় কোনো আলোচনা মেনে নেবে না ইরান। গত দুই সপ্তাহ ধরে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন শক্তির প্রদর্শনীর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখে আলোচনার টেবিলকে ‘আত্মসমর্পণের টেবিলে’ পরিণত করতে চাইছে, যা তেহরান কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বুধবার শেষ হতে যাওয়া এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি বর্ধিত হওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে ‘অত্যন্ত কম’। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে গুলিবর্ষণ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন করেছে। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “ইরান যদি সঠিক চুক্তিতে না আসে, তবে মার্কিন বাহিনী তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেবে।”
কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আজ মঙ্গলবারই পাকিস্তানের ইসলামাবাদ সফরে যাচ্ছেন। তাঁর সাথে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা রয়েছে। তবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এই আলোচনার বিষয়ে অনড় অবস্থান নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত আলোচনা সফল হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঘাতপূর্ণ। গত রবিবার একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ আটকের পর থেকে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে তাদের কড়া নজরদারি ও অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

























