ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি, স্বাক্ষর ১৯ জুন
- আপডেট সময় ০৮:৪৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / 25
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তির আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত রাখা এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে এ চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার, ১৪ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পৃথক ঘোষণায় এ তথ্য জানান। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার খবর প্রচার করা হয়।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুমোদনের কথাও ঘোষণা করেন।
এর কয়েক মিনিট আগে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষ লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে।
শাহবাজ শরিফ আরও জানান, ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে বাস্তবায়নসংক্রান্ত কিছু বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে চুক্তির আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে হোয়াইট হাউস। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মাধ্যমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, এই সমঝোতা শান্তির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি দেশটির আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে জানান, সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত রূপ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, রোববার রাত থেকেই মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিরোধ অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন সময়ে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে এই জলপথকে কেন্দ্র করে যে কোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
চুক্তি নিয়ে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ কিংবা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে চুক্তির ঘোষণার দিনই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
ঘটনার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, শান্তি চুক্তির এত কাছাকাছি অবস্থানে এসে এমন হামলা হওয়া উচিত হয়নি। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানে ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন বেসামরিক নাগরিক।
এ ছাড়া লেবাননে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ। উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে নিহত হয়েছেন ৩৬ জন। ইসরায়েলে ২০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আরও দুজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর তথ্যও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।






















