ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোপন সফরে আফ্রিকায় তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট, ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিল চীন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / 129

ছবি সংগৃহীত

 

গোপন সফরে আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড) পৌঁছেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সফরকালে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার পূর্ণ অধিকার তাইওয়ানের রয়েছে এবং কোনো দেশই এতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। এসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় এমসোয়াতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট লাইয়ের এই আকস্মিক ও গোপন সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন। বেইজিং এই সফরকে ‘গোপনে পলায়ন’ হিসেবে অভিহিত করে তাইওয়ান প্রেসিডেন্টকে ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিয়েছে। চীনের এমন বিতর্কিত মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতপার্থক্য ট্রাম্পের

তাইওয়ান সরকারের তথ্যমতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ এড়াতে সফরটি আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট লাই শনিবার একটি এসওয়াতিনি সরকারি বিমানে করে সেখানে পৌঁছান। তাইওয়ানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একে একটি কৌশলগত কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “লাই চিং-তের আচরণ এমন, যেন রাস্তা দিয়ে ছুটে যাওয়া একটি ইঁদুর—যা আন্তর্জাতিক মহলে উপহাসের জন্ম দেবে।” চীন সব সময়ই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।

পাল্টা জবাবে তাইওয়ানের নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল’ বেইজিংয়ের ভাষাকে ‘অশোভন ও নিম্নমানের’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফরের জন্য বেইজিংয়ের অনুমতির কোনো প্রয়োজন নেই।

বর্তমানে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা হাতেগোনা ১২টি দেশের মধ্যে এসওয়াতিনি অন্যতম। আফ্রিকার এই দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা তাইওয়ানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে লাইয়ের সফর নিয়ে চীন বাধা সৃষ্টি করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ভূমিকার সমালোচনা করেছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর এবং বেইজিংয়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া তাইওয়ান ইস্যুতে চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গোপন সফরে আফ্রিকায় তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট, ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিল চীন

আপডেট সময় ০৫:১৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

 

গোপন সফরে আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড) পৌঁছেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সফরকালে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার পূর্ণ অধিকার তাইওয়ানের রয়েছে এবং কোনো দেশই এতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। এসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় এমসোয়াতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট লাইয়ের এই আকস্মিক ও গোপন সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন। বেইজিং এই সফরকে ‘গোপনে পলায়ন’ হিসেবে অভিহিত করে তাইওয়ান প্রেসিডেন্টকে ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিয়েছে। চীনের এমন বিতর্কিত মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

আরও পড়ুন  ২০২৫ সালে চীনে রাশিয়ার স্বর্ণ রপ্তানিতে রেকর্ড

তাইওয়ান সরকারের তথ্যমতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ এড়াতে সফরটি আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট লাই শনিবার একটি এসওয়াতিনি সরকারি বিমানে করে সেখানে পৌঁছান। তাইওয়ানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একে একটি কৌশলগত কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “লাই চিং-তের আচরণ এমন, যেন রাস্তা দিয়ে ছুটে যাওয়া একটি ইঁদুর—যা আন্তর্জাতিক মহলে উপহাসের জন্ম দেবে।” চীন সব সময়ই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।

পাল্টা জবাবে তাইওয়ানের নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল’ বেইজিংয়ের ভাষাকে ‘অশোভন ও নিম্নমানের’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফরের জন্য বেইজিংয়ের অনুমতির কোনো প্রয়োজন নেই।

বর্তমানে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা হাতেগোনা ১২টি দেশের মধ্যে এসওয়াতিনি অন্যতম। আফ্রিকার এই দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা তাইওয়ানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে লাইয়ের সফর নিয়ে চীন বাধা সৃষ্টি করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ভূমিকার সমালোচনা করেছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর এবং বেইজিংয়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া তাইওয়ান ইস্যুতে চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।