অং সান সু চির সাজা কমাল মিয়ানমার জান্তা: গৃহবন্দিত্ব নিয়ে কাটেনি ধোঁয়াশা
- আপডেট সময় ০৬:০৮:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 26
মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চির সাজার মেয়াদ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বর্তমান সামরিক জান্তা সমর্থিত সরকার। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তাঁর আইনজীবীর বরাতে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দুর্নীতি, উসকানি, নির্বাচনী জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের মতো একাধিক অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন ৮০ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ী নেত্রী। সাজার মেয়াদ কমানো হলেও তাঁকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি হিসেবে রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো বার্তা মেলেনি।
সু চির আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মোট সাজার মেয়াদ থেকে এক-ষষ্ঠাংশ হ্রাস করা হয়েছে। তাঁর সমর্থক ও মিত্রদের দাবি, সু চিকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে রাখতেই ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এদিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানিয়েছে, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং দেশের ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করেছেন।
মিয়ানমারে সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস এবং এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে এই ধরনের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়ে থাকে। গত ছয় মাসের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বার বন্দিদের মুক্তি বা সাজা কমানোর পদক্ষেপ নিল জান্তা প্রশাসন। তবে সু চির সাজার মেয়াদ হ্রাসের বিষয়ে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতার দখল নেন তৎকালীন সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। সেই থেকে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ও চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। সম্প্রতি বিতর্কিত এক নির্বাচনের পর গত ৩ এপ্রিল নবগঠিত পার্লামেন্ট মিন অং হ্লাইংকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সংস্থাগুলো ওই নির্বাচনকে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি’ বলে শুরু থেকেই সমালোচনা করে আসছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই সু চির সাজা হ্রাসের এই ঘোষণা কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে বিশ্লেষণ চলছে।

























