ইসলামাবাদে ফের আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, শুক্রবার শুরুর সম্ভাবনা
- আপডেট সময় ০৪:৫২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 16
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি আলোচনা চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ পুনরায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার নির্ভরযোগ্য পাঁচটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়নি, তবে দুই দেশের প্রতিনিধিদল শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে যেকোনো দিন বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছে। গত শনিবার প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যে ঐতিহাসিক বৈঠক শুরু হয়েছিল, তা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর পাকিস্তান আবারও মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে।
ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার সময়সূচি নিয়ে পাকিস্তান উভয় পক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে।
দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে পরবর্তী দফার আলোচনায় বসার ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এর আগে গত শনিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ প্রায় ২১ ঘণ্টা ব্যাপী ম্যারাথন আলোচনায় নিজ নিজ দেশের নেতৃত্ব দেন। সেই বৈঠকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালির অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ গত সোমবার ফেডারেল মন্ত্রিসভায় দেওয়া এক ভাষণে জানিয়েছেন, যুদ্ধাবস্থা স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তর করতে তার সরকার ‘পূর্ণ প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রেখেছে। তিনি এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক অসলো বা জেনেভা চুক্তির মতো ধৈর্যসাপেক্ষ প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে দুই দেশকেই নমনীয় হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত দফার আলোচনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একটি ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব’ উপস্থাপনের কথা জানিয়েছিলেন, যা নিয়ে চলতি সপ্তাহের বৈঠকে বিস্তারিত বিতর্ক হতে পারে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে এই আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। হোয়াইট হাউস বা ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া না গেলেও ইসলামাবাদে দুই বৈরী দেশের প্রতিনিধিদের ফিরে আসা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
























