ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

আফগানিস্তানে পিকনিক স্পটে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত অন্তত ৪

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 120

ছবি সংগৃহীত

 

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে একটি জনাকীর্ণ পিকনিক স্পটে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রদেশের এনজিল জেলার দেহ মেহরি গ্রামের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও স্থানীয় সূত্রের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তালেবান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাতজন নিহতের কথা জানালেও স্থানীয় হাসপাতাল ও প্রাদেশিক কর্মকর্তারা নিহতের সংখ্যা ভিন্নভাবে দাবি করছেন।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় দেহ মেহরি গ্রাম সংলগ্ন এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে পিকনিক ও বিনোদনের জন্য বেশ জনপ্রিয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র বন্দুকধারী হঠাৎ করেই সাধারণ মানুষের ওপর লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিনোদন করতে আসা মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।

আরও পড়ুন  সুন্দরবনে টহল দলের বনকর্মীদের ওপর দুষ্কৃতকারীদের হামলা, আহত ২

তালেবান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রদেশের একজন স্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে নিহতের সংখ্যা চারজন। অন্যদিকে, হেরাত হাসপাতালের একজন চিকিৎসক দাবি করেছেন, নিহতের সংখ্যা ১২ এবং সমপরিমাণ মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা নিয়ে এই অমিল মেটানোর চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

হেরাত হাসপাতালের ওই চিকিৎসক আরও জানান, হামলার শিকার ব্যক্তিরা সংখ্যালঘু হাজারা শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য। তারা স্থানীয় একটি মাজারে পিকনিক করতে এসেছিলেন। সংখ্যালঘু এই সম্প্রদায়টি দীর্ঘকাল ধরে আফগানিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন এই নৃশংস হামলার দায় স্বীকার করেনি। তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে। তবে মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে হাজারা শিয়া মুসলিমরা বারবার সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হচ্ছে। অতীতে এই ধরনের হামলার পেছনে আইএস (ইসলামিক স্টেট)-এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও বর্তমান ঘটনার কারণ এখনো অস্পষ্ট। এই হামলার পর পুরো হেরাত প্রদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এমন কাপুরুষোচিত হামলা বরদাশত করা হবে না এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে পিকনিক স্পটে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত অন্তত ৪

আপডেট সময় ০৬:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

 

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে একটি জনাকীর্ণ পিকনিক স্পটে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রদেশের এনজিল জেলার দেহ মেহরি গ্রামের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও স্থানীয় সূত্রের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তালেবান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাতজন নিহতের কথা জানালেও স্থানীয় হাসপাতাল ও প্রাদেশিক কর্মকর্তারা নিহতের সংখ্যা ভিন্নভাবে দাবি করছেন।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় দেহ মেহরি গ্রাম সংলগ্ন এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে পিকনিক ও বিনোদনের জন্য বেশ জনপ্রিয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র বন্দুকধারী হঠাৎ করেই সাধারণ মানুষের ওপর লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিনোদন করতে আসা মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।

আরও পড়ুন  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমানের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার

তালেবান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রদেশের একজন স্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে নিহতের সংখ্যা চারজন। অন্যদিকে, হেরাত হাসপাতালের একজন চিকিৎসক দাবি করেছেন, নিহতের সংখ্যা ১২ এবং সমপরিমাণ মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা নিয়ে এই অমিল মেটানোর চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

হেরাত হাসপাতালের ওই চিকিৎসক আরও জানান, হামলার শিকার ব্যক্তিরা সংখ্যালঘু হাজারা শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য। তারা স্থানীয় একটি মাজারে পিকনিক করতে এসেছিলেন। সংখ্যালঘু এই সম্প্রদায়টি দীর্ঘকাল ধরে আফগানিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন এই নৃশংস হামলার দায় স্বীকার করেনি। তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে। তবে মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে হাজারা শিয়া মুসলিমরা বারবার সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হচ্ছে। অতীতে এই ধরনের হামলার পেছনে আইএস (ইসলামিক স্টেট)-এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও বর্তমান ঘটনার কারণ এখনো অস্পষ্ট। এই হামলার পর পুরো হেরাত প্রদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এমন কাপুরুষোচিত হামলা বরদাশত করা হবে না এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।