ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ মির্জা আব্বাস দেশে ফিরে; যোগ দিয়েছেন নিজ দাফতরিক কাজে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ছাত্রদলের পুস্তিকা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করলেন রিজভী সাংবাদিকের লেখায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে দুই সপ্তাহের মধ্যে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জন্মের ১০০ বছরে উত্তম কুমার, দুই বাংলার দর্শকের ভালোবাসায় অমর মহানায়ক বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে হবে, তারিখ ঘোষণা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ নিহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 140

ছবি: সংগৃহীত

 

গাজা উপত্যকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আল জাজিরা মুবাশারের সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এই সংবাদদাতার মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবার মোহাম্মদ উইশাহ একটি গাড়িতে করে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। উপকূলীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তার গাড়িটি লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে গাড়িটিতে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মোহাম্মদ উইশাহ মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুন  ৩০ দিনের জন্য জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধে সম্মতি পুতিনের , তবে যুদ্ধ পুরোপুরি থামবে না

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চলমান ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে গাজায় সংবাদকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ তাদের সহকর্মীর এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং এই হামলাকে সরাসরি টার্গেট কিলিং হিসেবে অভিহিত করেছে।

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৬২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় সাংবাদিকদের এই ক্রমবর্ধমান মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর এটি একটি বড় আঘাত এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল।

সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহর হত্যাকাণ্ডটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন গাজার আল-আহলি হাসপাতাল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ত্রাণবাহী যানবাহনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। বেসামরিক নাগরিক ও সংবাদকর্মীদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করেই ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের সঠিক চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতেই গণমাধ্যমকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে বৈশ্বিক সংগঠনগুলো বারংবার আবেদন জানালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

মোহাম্মদ উইশাহর মৃত্যুর পর তার সহকর্মীরা জানান, তিনি সবসময়ই গাজার মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। তার এই অকাল বিয়োগ গাজার সাংবাদিকতা এবং আল জাজিরা পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সূত্র অনুযায়ী, নিহত সাংবাদিকের জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ নিহত

আপডেট সময় ০১:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

 

গাজা উপত্যকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আল জাজিরা মুবাশারের সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এই সংবাদদাতার মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবার মোহাম্মদ উইশাহ একটি গাড়িতে করে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। উপকূলীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তার গাড়িটি লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে গাড়িটিতে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মোহাম্মদ উইশাহ মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুন  আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চলমান ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে গাজায় সংবাদকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ তাদের সহকর্মীর এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং এই হামলাকে সরাসরি টার্গেট কিলিং হিসেবে অভিহিত করেছে।

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৬২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় সাংবাদিকদের এই ক্রমবর্ধমান মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর এটি একটি বড় আঘাত এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল।

সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহর হত্যাকাণ্ডটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন গাজার আল-আহলি হাসপাতাল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ত্রাণবাহী যানবাহনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। বেসামরিক নাগরিক ও সংবাদকর্মীদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করেই ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের সঠিক চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতেই গণমাধ্যমকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে বৈশ্বিক সংগঠনগুলো বারংবার আবেদন জানালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

মোহাম্মদ উইশাহর মৃত্যুর পর তার সহকর্মীরা জানান, তিনি সবসময়ই গাজার মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। তার এই অকাল বিয়োগ গাজার সাংবাদিকতা এবং আল জাজিরা পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সূত্র অনুযায়ী, নিহত সাংবাদিকের জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।