ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

দেশে জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস, তবে সরবরাহে চাপ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • / 128

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাবে নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে পারেনি একাধিক জ্বালানিবাহী জাহাজ। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও বিকল্প উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা চলছে, তবুও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সামনে এপ্রিল মাসে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং কোনো বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ না করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, দেশে এখনো জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়নি। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে এবং আরও কিছু আসার কথা রয়েছে। এপ্রিল মাসের আমদানি সূচিও চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও পরিশোধিত ডিজেল সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  ইরানের ৩০টি জ্বালানি ডিপোতে ইসরায়েলের হামলায় অসন্তোষ যুক্তরাষ্ট্রের: দাবি মার্কিন গণমাধ্যমের

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৪ দিনের ডিজেল মজুত ছিল। তবে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় মানুষ আগাম জ্বালানি সংগ্রহ করায় অনেক জায়গায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়।

বর্তমানে জ্বালানি মজুতের চিত্র অনুযায়ী—
ডিজেল রয়েছে প্রায় ১.৮৫ লাখ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
অকটেনের মজুত প্রায় ১১ হাজার টন, যা ৯ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
পেট্রোল রয়েছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন, যা দিয়ে প্রায় ১১ দিন সরবরাহ দেওয়া যাবে।
ফার্নেস তেলের মজুত ৭০ হাজার ৮৩৩ টন, যা প্রায় ২৯ দিন চলবে।
জেট ফুয়েল রয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন, যা ২৩ দিনের জন্য যথেষ্ট।
কেরোসিনের মজুত ৮ হাজার ৫৭১ টন, যা দিয়ে ৪৬ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে।
মেরিন ফুয়েল রয়েছে প্রায় দেড় হাজার টন, যা ৪৪ দিন পর্যন্ত সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

এদিকে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আরও ১৭ থেকে ১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নতুন চালান সময়মতো না পৌঁছালে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহের ওপর একাধিক চাপ একসঙ্গে কাজ করছে—জাহাজ আসতে বিলম্ব, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত চাহিদা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস, তবে সরবরাহে চাপ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে

আপডেট সময় ১২:৩৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাবে নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে পারেনি একাধিক জ্বালানিবাহী জাহাজ। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও বিকল্প উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা চলছে, তবুও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সামনে এপ্রিল মাসে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং কোনো বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ না করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, দেশে এখনো জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়নি। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে এবং আরও কিছু আসার কথা রয়েছে। এপ্রিল মাসের আমদানি সূচিও চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও পরিশোধিত ডিজেল সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  গ্যাস সংকট কাটাতে ঋণের ফাঁদে জ্বালানি খাত, এলএনজি কেনার জন্য ৪২৭০ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারে সরকার

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৪ দিনের ডিজেল মজুত ছিল। তবে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় মানুষ আগাম জ্বালানি সংগ্রহ করায় অনেক জায়গায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়।

বর্তমানে জ্বালানি মজুতের চিত্র অনুযায়ী—
ডিজেল রয়েছে প্রায় ১.৮৫ লাখ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
অকটেনের মজুত প্রায় ১১ হাজার টন, যা ৯ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
পেট্রোল রয়েছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন, যা দিয়ে প্রায় ১১ দিন সরবরাহ দেওয়া যাবে।
ফার্নেস তেলের মজুত ৭০ হাজার ৮৩৩ টন, যা প্রায় ২৯ দিন চলবে।
জেট ফুয়েল রয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন, যা ২৩ দিনের জন্য যথেষ্ট।
কেরোসিনের মজুত ৮ হাজার ৫৭১ টন, যা দিয়ে ৪৬ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে।
মেরিন ফুয়েল রয়েছে প্রায় দেড় হাজার টন, যা ৪৪ দিন পর্যন্ত সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

এদিকে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আরও ১৭ থেকে ১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নতুন চালান সময়মতো না পৌঁছালে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহের ওপর একাধিক চাপ একসঙ্গে কাজ করছে—জাহাজ আসতে বিলম্ব, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত চাহিদা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।