ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

হরমুজ সংকটের মাঝেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে ১৫ জাহাজ, রয়েছে জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • / 173

ছবি: সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লেও, সংঘাত শুরুর আগেই রওনা দেওয়া জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামালবাহী অন্তত ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালসহ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন পণ্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা এসব জাহাজের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২টি বন্দরে পৌঁছেছে। বাকি তিনটি জাহাজ চলতি সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জাহাজগুলোর মধ্যে চারটিতে এলএনজি, দুটি জাহাজে এলপিজি এবং নয়টিতে সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার রয়েছে। এছাড়া কিছু জাহাজে জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথরও রয়েছে।

আরও পড়ুন  ৩০ দিনের জন্য জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধে সম্মতি পুতিনের , তবে যুদ্ধ পুরোপুরি থামবে না

কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চারটি জাহাজে মোট প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে বলে জানা গেছে।

এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানিয়েছেন, নির্ধারিত চারটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবে ‘লিবারেল’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থান করছে এবং প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যৎ চালান নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এদিকে ওমানের সোহার বন্দর থেকে প্রায় ২২ হাজার টন এলপিজি নিয়ে ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে একই বন্দর থেকে আসা ‘জি ওয়াইএমএম’ নামের আরেকটি এলপিজিবাহী জাহাজে প্রায় ১৯ হাজার টন এলপিজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। এসব এলপিজি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির জন্য আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর থেকে পাঁচ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

সিমেন্ট শিল্পের জন্য ক্লিংকারসহ বিভিন্ন কাঁচামাল নিয়ে আরও কয়েকটি জাহাজ বন্দরে এসেছে। এসব জাহাজে মোট প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে, যা মূলত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানির একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পথ ব্যবহার করে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যার বড় অংশ জ্বালানি পণ্য।

তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নতুন জাহাজের চলাচল ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ সংকটের মাঝেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে ১৫ জাহাজ, রয়েছে জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল

আপডেট সময় ০৮:১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লেও, সংঘাত শুরুর আগেই রওনা দেওয়া জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামালবাহী অন্তত ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালসহ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন পণ্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা এসব জাহাজের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২টি বন্দরে পৌঁছেছে। বাকি তিনটি জাহাজ চলতি সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জাহাজগুলোর মধ্যে চারটিতে এলএনজি, দুটি জাহাজে এলপিজি এবং নয়টিতে সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার রয়েছে। এছাড়া কিছু জাহাজে জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথরও রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি ইসরায়েলের, এখন শুধু ট্রাম্পের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষা

কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চারটি জাহাজে মোট প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে বলে জানা গেছে।

এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানিয়েছেন, নির্ধারিত চারটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবে ‘লিবারেল’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থান করছে এবং প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যৎ চালান নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এদিকে ওমানের সোহার বন্দর থেকে প্রায় ২২ হাজার টন এলপিজি নিয়ে ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে একই বন্দর থেকে আসা ‘জি ওয়াইএমএম’ নামের আরেকটি এলপিজিবাহী জাহাজে প্রায় ১৯ হাজার টন এলপিজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। এসব এলপিজি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির জন্য আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর থেকে পাঁচ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

সিমেন্ট শিল্পের জন্য ক্লিংকারসহ বিভিন্ন কাঁচামাল নিয়ে আরও কয়েকটি জাহাজ বন্দরে এসেছে। এসব জাহাজে মোট প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে, যা মূলত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানির একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পথ ব্যবহার করে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যার বড় অংশ জ্বালানি পণ্য।

তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নতুন জাহাজের চলাচল ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।