ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

দক্ষিণ লেবাননেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 161

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরায়েলি বাহিনী আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলে। তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি উপেক্ষা করেই এই হামলা চালাই। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ব্লাত এবং ওয়াদি বারঘৌতি এলাকায় একাধিকবার এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালাচ্ছে। যদিও প্রতিদিনের চলমান এই হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি: মুক্তি পেল ২০০ ফিলিস্তিনি বন্দী

আল জাজিরার বরাতে বলা হয়েছে, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি কারণ বেশিরভাগ হামলা বন ও পাহাড়ের মধ্যবর্তী খোলা জায়গায় চালানো হয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননের আকাশে এখনও ইসরায়েলি সামরিক বিমান উড়তে দেখা যাচ্ছে।

লেবাননের আল-মায়েদিন চ্যানেল নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইকলিম আল-তুফাহর উচ্চভূমি লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে। এদিকে, হিজবুল্লাহর আল-মানার টিভি জানিয়েছে, মারকাবা শহরে ইসরায়েলি ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোন থেকে তৃতীয়বারের মতো বিস্ফোরক দ্রব্য নিক্ষেপ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবারের (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই হামলায় লেবাননের বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি একজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ১৬ বছর বয়সী এক সিরীয় কিশোর, যার নাম হোসেন মহসিন আল-খালাফ। ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইসরায়েল লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে এবং প্রায় ১৭ হাজারের মানুষ আহত হয়েছে। গত সপ্তাহেও বেকা উপত্যকা এবং সিডন শহরের কাছে আইন আল-হিলওয়াহ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েল এখনও লেবাননের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে, যা সীমান্ত এলাকার গ্রাম পুনর্গঠন এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরে ফেরাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

লেবানন সরকার জানিয়েছে, তারা লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে এবং দ্বিতীয় ধাপের জন্য আরও চার মাস সময় প্রয়োজন। তবে হিজবুল্লাহ এটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিরস্ত্রীকরণ শর্ত কেবল নদীর দক্ষিণ অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। গোষ্ঠীটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, ইসরায়েল যতক্ষণ লেবানন আক্রমণ ও দখল করে রাখবে ততক্ষণ তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।

এদিকে আজ সকালে ইরানেও আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ লেবাননেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

আপডেট সময় ০২:২২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ইসরায়েলি বাহিনী আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলে। তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি উপেক্ষা করেই এই হামলা চালাই। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ব্লাত এবং ওয়াদি বারঘৌতি এলাকায় একাধিকবার এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালাচ্ছে। যদিও প্রতিদিনের চলমান এই হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

আরও পড়ুন  গাজার নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল বারহুম ইসরায়েলি হামলায় নিহত

আল জাজিরার বরাতে বলা হয়েছে, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি কারণ বেশিরভাগ হামলা বন ও পাহাড়ের মধ্যবর্তী খোলা জায়গায় চালানো হয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননের আকাশে এখনও ইসরায়েলি সামরিক বিমান উড়তে দেখা যাচ্ছে।

লেবাননের আল-মায়েদিন চ্যানেল নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইকলিম আল-তুফাহর উচ্চভূমি লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে। এদিকে, হিজবুল্লাহর আল-মানার টিভি জানিয়েছে, মারকাবা শহরে ইসরায়েলি ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোন থেকে তৃতীয়বারের মতো বিস্ফোরক দ্রব্য নিক্ষেপ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবারের (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই হামলায় লেবাননের বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি একজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ১৬ বছর বয়সী এক সিরীয় কিশোর, যার নাম হোসেন মহসিন আল-খালাফ। ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইসরায়েল লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে এবং প্রায় ১৭ হাজারের মানুষ আহত হয়েছে। গত সপ্তাহেও বেকা উপত্যকা এবং সিডন শহরের কাছে আইন আল-হিলওয়াহ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েল এখনও লেবাননের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে, যা সীমান্ত এলাকার গ্রাম পুনর্গঠন এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরে ফেরাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

লেবানন সরকার জানিয়েছে, তারা লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে এবং দ্বিতীয় ধাপের জন্য আরও চার মাস সময় প্রয়োজন। তবে হিজবুল্লাহ এটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিরস্ত্রীকরণ শর্ত কেবল নদীর দক্ষিণ অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। গোষ্ঠীটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, ইসরায়েল যতক্ষণ লেবানন আক্রমণ ও দখল করে রাখবে ততক্ষণ তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।

এদিকে আজ সকালে ইরানেও আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।