ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
উত্তর আমেরিকা ২৩ দেশের বৈচিত্র্য, শক্তি ও সংস্কৃতির মহাদেশ হিলি বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, পাসপোর্টযাত্রী পারাপার স্বাভাবিক কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ: শিবগঞ্জে শিক্ষামন্ত্রী ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন: বর্ষবরণ ও হালখাতার বিবর্তন ও প্রাসঙ্গিকতা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য: টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী ইসলামাবাদে ফের আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, শুক্রবার শুরুর সম্ভাবনা পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম, প্রাণ গেল কলেজছাত্রী দিয়ার ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র আশঙ্কা শোভাযাত্রার মোটিফ আটকে গেল মেট্রো ভবনে পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অংশ নিতে সেনা প্রস্তুত করছে ইন্দোনেশিয়া

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৩২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 986

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের দীর্ঘ ক্ষতচিহ্নে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অংশ নিতে প্রায় ৮ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির সেনাবাহিনীর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুন্তাকের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় পাঠানোর জন্য নির্বাচিত সেনাদের নিবন্ধন ও তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা বিশেষ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। গাজায় সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়াই প্রথম দেশ হিসেবে বাস্তব প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত একটি শান্তি পরিকল্পনার আওতায় ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল ও গাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন হামাস। ওই ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য একটি অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট সরকার এবং নিরাপত্তা রক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়। এই বাহিনীর নাম দেওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)।

আরও পড়ুন  ফেব্রুয়ারিতেই চীনের পণ্যে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প  

পরিকল্পনায় আরও উল্লেখ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক পরিষদ— ‘বোর্ড অব পিস’— গঠন করা হবে, যার কাছে গাজার টেকনোক্র্যাট সরকার ও আইএসএফ জবাবদিহি করবে। চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বোর্ড গঠন করেন এবং বিভিন্ন দেশকে সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে গাজার পুনর্গঠনের জন্য প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে এক বিলিয়ন ডলার করে অনুদান নির্ধারণ করা হয়।

পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসের সদস্য হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে এই পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গাজায় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চললেও ঠিক কবে সেনারা সেখানে যাবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তারা প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার ভেতরে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা দেখা দেয়। তবে এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ হিসেবে গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখা ইন্দোনেশিয়ার নৈতিক দায়িত্ব।

এদিকে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল কান জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে রাফাহ ও খান ইউনিসের মধ্যবর্তী এলাকায় ইন্দোনেশীয় সেনাদের জন্য ব্যারাক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই ব্যারাক নির্মাণের স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অংশ নিতে সেনা প্রস্তুত করছে ইন্দোনেশিয়া

আপডেট সময় ০৯:৩২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুদ্ধের দীর্ঘ ক্ষতচিহ্নে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অংশ নিতে প্রায় ৮ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির সেনাবাহিনীর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুন্তাকের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় পাঠানোর জন্য নির্বাচিত সেনাদের নিবন্ধন ও তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা বিশেষ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। গাজায় সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়াই প্রথম দেশ হিসেবে বাস্তব প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত একটি শান্তি পরিকল্পনার আওতায় ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল ও গাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন হামাস। ওই ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য একটি অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট সরকার এবং নিরাপত্তা রক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়। এই বাহিনীর নাম দেওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)।

আরও পড়ুন  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়ার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর দিলেন ট্রাম্প

পরিকল্পনায় আরও উল্লেখ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক পরিষদ— ‘বোর্ড অব পিস’— গঠন করা হবে, যার কাছে গাজার টেকনোক্র্যাট সরকার ও আইএসএফ জবাবদিহি করবে। চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বোর্ড গঠন করেন এবং বিভিন্ন দেশকে সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে গাজার পুনর্গঠনের জন্য প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে এক বিলিয়ন ডলার করে অনুদান নির্ধারণ করা হয়।

পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসের সদস্য হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে এই পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গাজায় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চললেও ঠিক কবে সেনারা সেখানে যাবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তারা প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার ভেতরে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা দেখা দেয়। তবে এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ হিসেবে গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখা ইন্দোনেশিয়ার নৈতিক দায়িত্ব।

এদিকে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল কান জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে রাফাহ ও খান ইউনিসের মধ্যবর্তী এলাকায় ইন্দোনেশীয় সেনাদের জন্য ব্যারাক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই ব্যারাক নির্মাণের স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি