ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ চলমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‎যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে সংলাপে ফেরার আহ্বান চীন ও পাকিস্তানের সংবিধান সংশোধন চাই, সংস্কারের কথা কখনও বলিনি: মির্জা ফখরুল ‎পুনর্বাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্যার্তদের পাশে থাকবে সরকার: অর্থমন্ত্রী ফকল্যান্ড ইস্যুতে আর্জেন্টিনাকে গুনতে হতে পারে জরিমানা টানা ষষ্ঠ দিনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বনভোজন শেষে ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যু মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের বাংলাদেশকে শুভকামনা জানালেন আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়ক

ইতোকোতর্মিতো – বরফের রাজ্যে মানুষের বসতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1418

ছবি: সংগৃহীত

 

গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে, আর্কটিক অঞ্চলের গভীরে অবস্থিত একটি ছোট কিন্তু ব্যতিক্রমী শহরের নাম ইতোকোতর্মিতো। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন জনবসতিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। চারপাশে বিশাল বরফ, দীর্ঘ শীত আর সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এই জায়গাটিকে করেছে আলাদা।

ইতোকোতর্মিতোর ইতিহাস শুরু হয় ১৯২৫ সালে। ডেনিশ অভিযাত্রী আইনর মিকেলসেনের নেতৃত্বে কিছু ইনুইট পরিবার এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। মূল লক্ষ্য ছিল এই অঞ্চলে ডেনমার্কের উপস্থিতি শক্ত করা এবং শিকারভিত্তিক জীবনধারা ধরে রাখা। একসময় এর নাম ছিল স্কোরসবাইসুন্ড, যা এক ব্রিটিশ অভিযাত্রীর নাম থেকে নেওয়া।

আরও পড়ুন  গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন বিবেচনা করছে জার্মানি

এখানকার মানুষের জীবন প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। শিকার ও মাছ ধরা এখানকার প্রধান জীবিকা। সিল, নারহোয়াল ও মাঝে মাঝে মেরু ভালুক শিকার করা হয় স্থানীয় নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ মেনে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সীমিত হলেও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা খুব শক্ত।

পর্যটনের দিক থেকে ইতোকোতর্মিতো খুবই বিশেষ। যারা অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি এক অনন্য গন্তব্য। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফিয়র্ড সিস্টেম স্কোরসবাই সাউন্ড এখানেই অবস্থিত। গ্রীষ্মকালে বরফ কিছুটা গলে গেলে নৌভ্রমণ, হাইকিং এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়। শীতকালে কুকুরের স্লেজে চলাচল এখানকার ঐতিহ্যবাহী অভিজ্ঞতা।

যাতায়াত সহজ নয়। সাধারণত আইসল্যান্ড হয়ে বিমানে বা হেলিকপ্টারে পৌঁছাতে হয়। দীর্ঘ শীতের কারণে বছরের বেশির ভাগ সময় এই শহর বাইরের দুনিয়া থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকে।

ইতোকোতর্মিতো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আধুনিক বিশ্বের বাইরেও মানুষ প্রকৃতির কঠিন পরিবেশে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। ইতিহাস, সংগ্রাম আর অপরূপ আর্কটিক সৌন্দর্যের মিলনে এই শহর সত্যিই অনন্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইতোকোতর্মিতো – বরফের রাজ্যে মানুষের বসতি

আপডেট সময় ০৭:২১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

 

গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে, আর্কটিক অঞ্চলের গভীরে অবস্থিত একটি ছোট কিন্তু ব্যতিক্রমী শহরের নাম ইতোকোতর্মিতো। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন জনবসতিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। চারপাশে বিশাল বরফ, দীর্ঘ শীত আর সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এই জায়গাটিকে করেছে আলাদা।

ইতোকোতর্মিতোর ইতিহাস শুরু হয় ১৯২৫ সালে। ডেনিশ অভিযাত্রী আইনর মিকেলসেনের নেতৃত্বে কিছু ইনুইট পরিবার এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। মূল লক্ষ্য ছিল এই অঞ্চলে ডেনমার্কের উপস্থিতি শক্ত করা এবং শিকারভিত্তিক জীবনধারা ধরে রাখা। একসময় এর নাম ছিল স্কোরসবাইসুন্ড, যা এক ব্রিটিশ অভিযাত্রীর নাম থেকে নেওয়া।

আরও পড়ুন  গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সফর ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা, ক্ষুব্ধ স্থানীয় নেতারা

এখানকার মানুষের জীবন প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। শিকার ও মাছ ধরা এখানকার প্রধান জীবিকা। সিল, নারহোয়াল ও মাঝে মাঝে মেরু ভালুক শিকার করা হয় স্থানীয় নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ মেনে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সীমিত হলেও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা খুব শক্ত।

পর্যটনের দিক থেকে ইতোকোতর্মিতো খুবই বিশেষ। যারা অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি এক অনন্য গন্তব্য। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফিয়র্ড সিস্টেম স্কোরসবাই সাউন্ড এখানেই অবস্থিত। গ্রীষ্মকালে বরফ কিছুটা গলে গেলে নৌভ্রমণ, হাইকিং এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়। শীতকালে কুকুরের স্লেজে চলাচল এখানকার ঐতিহ্যবাহী অভিজ্ঞতা।

যাতায়াত সহজ নয়। সাধারণত আইসল্যান্ড হয়ে বিমানে বা হেলিকপ্টারে পৌঁছাতে হয়। দীর্ঘ শীতের কারণে বছরের বেশির ভাগ সময় এই শহর বাইরের দুনিয়া থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকে।

ইতোকোতর্মিতো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আধুনিক বিশ্বের বাইরেও মানুষ প্রকৃতির কঠিন পরিবেশে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। ইতিহাস, সংগ্রাম আর অপরূপ আর্কটিক সৌন্দর্যের মিলনে এই শহর সত্যিই অনন্য।