ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে ক্লাস বর্জন চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’: প্রতিমন্ত্রী স্ক্যাম মেসেজ খোলার আগেই সতর্ক করবে হোয়াটসঅ্যাপ নিবন্ধনহীন কিন্ডারগার্টেন বন্ধের উদ্যোগ: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হোটেলে অ/গ্নি/কা/ণ্ড, বাংলাদেশিদের জন্য হেল্পলাইন চালু চার দেশে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল দূতাবাস অক্টোবরে পাঁচ বিভাগীয় ও জেলা শহরে শিশু হাসপাতাল চালুর ঘোষণা ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট শপথ নতুন রাষ্ট্রপতির একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন পশ্চিমবঙ্গের হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বাংলাদেশিরা

 নিকোলাস মাদুরো কে?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1829

ছবি সংগৃহীত

 

হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে নিকোলাস মাদুরোর উত্থান শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেই দেশের শাসকের আসনে বসেন।
নিকোলাস মাদুরোর জন্ম ১৯৬২ সালের ২৩ নভেম্বর, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে। তিনি কোনো সামরিক একাডেমি বা অভিজাত রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসেননি।

তরুণ বয়সে তিনি বাসচালক হিসেবে কাজ করেন এবং একই সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই সময়েই তিনি বামপন্থি আদর্শে প্রভাবিত হন এবং সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পান।

আরও পড়ুন  একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

হুগো শ্যাভেজ ক্ষমতায় আসার পর মাদুরো তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে প্রবেশ করেন। অনেক সময় তাকে শ্যাভেজের নিরাপত্তা বলয় বা বডিগার্ড ইউনিটের সঙ্গে কাজ করতে দেখা গেছে—যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষিত সামরিক বডিগার্ড ছিলেন না।

শ্যাভেজ মূলত তার প্রতি আস্থা রাখতেন রাজনৈতিক আনুগত্য, ব্যক্তিগত বিশ্বস্ততা ও আদর্শিক সামঞ্জস্যের কারণে।

২০০০-এর দশকে মাদুরোর রাজনৈতিক উত্থান দ্রুত হয়। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে ভেনেজুয়েলার সংসদের স্পিকার হন।

২০০৬ সালে হুগো শ্যাভেজ তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেন। দীর্ঘ সময় এই দায়িত্বে থেকে মাদুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শ্যাভেজের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন এবং কিউবা, রাশিয়া ও ইরানের মতো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন।

২০১২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত শ্যাভেজ প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন—তার মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরোই তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হবেন।

২০১৩ সালে শ্যাভেজের মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মাদুরো এবং এরপরের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন।

ক্ষমতায় আসার পর মাদুরোর শাসনকাল গভীর অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও ওষুধের সংকট এবং ব্যাপক রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়।

বিরোধীদের কাছে তিনি স্বৈরশাসক, আর সমর্থকদের চোখে তিনি শ্যাভেজের বলিভারীয় বিপ্লবের উত্তরাধিকারী।

হুগো শ্যাভেজের ছায়া থেকে উঠে এসে নিকোলাস মাদুরো আজ ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু—একজন শ্রমিক নেতা থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠার এক ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত রাজনৈতিক যাত্রার প্রতীক।

নিউজটি শেয়ার করুন

 নিকোলাস মাদুরো কে?

আপডেট সময় ০৬:১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

 

হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে নিকোলাস মাদুরোর উত্থান শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেই দেশের শাসকের আসনে বসেন।
নিকোলাস মাদুরোর জন্ম ১৯৬২ সালের ২৩ নভেম্বর, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে। তিনি কোনো সামরিক একাডেমি বা অভিজাত রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসেননি।

তরুণ বয়সে তিনি বাসচালক হিসেবে কাজ করেন এবং একই সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই সময়েই তিনি বামপন্থি আদর্শে প্রভাবিত হন এবং সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পান।

আরও পড়ুন  আপনারা ভালা আছেন নি?' সিলেটে তারেক রহমান

হুগো শ্যাভেজ ক্ষমতায় আসার পর মাদুরো তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে প্রবেশ করেন। অনেক সময় তাকে শ্যাভেজের নিরাপত্তা বলয় বা বডিগার্ড ইউনিটের সঙ্গে কাজ করতে দেখা গেছে—যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষিত সামরিক বডিগার্ড ছিলেন না।

শ্যাভেজ মূলত তার প্রতি আস্থা রাখতেন রাজনৈতিক আনুগত্য, ব্যক্তিগত বিশ্বস্ততা ও আদর্শিক সামঞ্জস্যের কারণে।

২০০০-এর দশকে মাদুরোর রাজনৈতিক উত্থান দ্রুত হয়। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে ভেনেজুয়েলার সংসদের স্পিকার হন।

২০০৬ সালে হুগো শ্যাভেজ তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেন। দীর্ঘ সময় এই দায়িত্বে থেকে মাদুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শ্যাভেজের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন এবং কিউবা, রাশিয়া ও ইরানের মতো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন।

২০১২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত শ্যাভেজ প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন—তার মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরোই তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হবেন।

২০১৩ সালে শ্যাভেজের মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মাদুরো এবং এরপরের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন।

ক্ষমতায় আসার পর মাদুরোর শাসনকাল গভীর অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও ওষুধের সংকট এবং ব্যাপক রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়।

বিরোধীদের কাছে তিনি স্বৈরশাসক, আর সমর্থকদের চোখে তিনি শ্যাভেজের বলিভারীয় বিপ্লবের উত্তরাধিকারী।

হুগো শ্যাভেজের ছায়া থেকে উঠে এসে নিকোলাস মাদুরো আজ ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু—একজন শ্রমিক নেতা থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠার এক ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত রাজনৈতিক যাত্রার প্রতীক।