ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত বিমানবাহিনী ছেড়ে এবার যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন অভিনন্দন ‘সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব’: কৃষিমন্ত্রী বিপিএল অনিশ্চিত, ক্রিকেটারদের সুখবর বিসিবি বসের

ভয়াবহ বন্যার পর এবার কলেরার ঝুঁকিতে পাকিস্তান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 1144

ছবি সংগৃহীত

 

ভয়াবহ বন্যার পর এবার কলেরার ঝুঁকিতে পড়েছে পাকিস্তান। বন্যার কারণে দেশটির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে দেশটিতে কলেরাসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ থেকে অতিরিক্ত বর্ষা ও ভূমিধসে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এছাড়া ধ্বংস হয়েছে আরও ১২ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি এবং সাড়ে ৬ হাজার গবাদি পশু মারা গেছে। এর পাশাপাশি কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব এলাকায় কলেরাসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেক বেশি।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ: ৪ সদস্যসহ নিহত ১৯ 

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শোভা লুক্সমি বলেন, পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও পুষ্টি সহায়তাকে ত্রাণ কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ব্রিটিশ রেড ক্রস জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও হাত ধোঁয়ার সুবিধা নেই। এ কারণে কলেরা ও আমাশয়ের মতো রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন পাকিস্তানে বন্যা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ ১ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু ঝুঁকির দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে দেশটি। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশটির এক-তৃতীয়াংশ এলাকা ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এবং ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শিশু ও বয়স্কদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য যথেষ্ট কার্যকর নয়। সংস্থার গবেষক লরা মিলস বলেছেন, পাকিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতির বাইরেও দুর্বল। জলবায়ু সংকট এটাকে আরও বিপর্যস্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ভয়াবহ বন্যার পর এবার কলেরার ঝুঁকিতে পাকিস্তান

আপডেট সময় ০৩:৫২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

ভয়াবহ বন্যার পর এবার কলেরার ঝুঁকিতে পড়েছে পাকিস্তান। বন্যার কারণে দেশটির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে দেশটিতে কলেরাসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ থেকে অতিরিক্ত বর্ষা ও ভূমিধসে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এছাড়া ধ্বংস হয়েছে আরও ১২ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি এবং সাড়ে ৬ হাজার গবাদি পশু মারা গেছে। এর পাশাপাশি কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব এলাকায় কলেরাসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেক বেশি।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে এক সপ্তাহে নিহত ৩২, আহত দেড় শতাধিক

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শোভা লুক্সমি বলেন, পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও পুষ্টি সহায়তাকে ত্রাণ কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ব্রিটিশ রেড ক্রস জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও হাত ধোঁয়ার সুবিধা নেই। এ কারণে কলেরা ও আমাশয়ের মতো রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন পাকিস্তানে বন্যা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ ১ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু ঝুঁকির দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে দেশটি। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশটির এক-তৃতীয়াংশ এলাকা ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এবং ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শিশু ও বয়স্কদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য যথেষ্ট কার্যকর নয়। সংস্থার গবেষক লরা মিলস বলেছেন, পাকিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতির বাইরেও দুর্বল। জলবায়ু সংকট এটাকে আরও বিপর্যস্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।