ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত বিমানবাহিনী ছেড়ে এবার যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন অভিনন্দন ‘সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব’: কৃষিমন্ত্রী

“চীনের যুদ্ধ-বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকীতে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ভাষণ”

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 1073

ছবি সংগৃহীত

 

 

মান্যবর অতিথিগণ, বন্ধুগণ ও সাথীরা,
প্রথমত, আমি চীন সরকার ও চীনা জনগণের পক্ষ থেকে সকলকে আন্তরিক স্বাগত জানাচ্ছি! উপস্থিত সকলকে, দেশের সকল জাতির জনগণ ও বিশ্ববাসীকে বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি!
৮০ বছর আগে, চীনা জনগণ ১৪ বছর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর জাপানি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকারীদের সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করে এবং বিশ্ব ফ্যাসিবাদ-বিরোধী যুদ্ধের সম্পূর্ণ বিজয় ঘোষণা করে। এটি ছিল আধুনিক সময়ে চীনা জাতির গভীর সংকট থেকে মহান পুনরুজ্জীবনের দিকে ঐতিহাসিক বিপ্লববিন্দু, পাশাপাশি বিশ্ব উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লববিন্দু।
এই মহান বিজয় চীনা জনগণের বিশ্বের ফ্যাসিবাদ-বিরোধী মিত্রশক্তি এবং বিভিন্ন দেশের জনগণের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে অর্জিত। চীনা জনগণের আগ্রাসন প্রতিরোধে সমর্থন ও সহায়তাকারী বিদেশি সরকার ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের প্রতি চীন সরকার ও চীনা জনগণ চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে!
আজ সকালে, আমরা এক মহাসমারোহে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি, চীনা জনগণের প্রতিরোধ-যুদ্ধ ও বিশ্ব ফ্যাসিবাদ-বিরোধী যুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী গভীরভাবে স্মরণ করেছি, এর উদ্দেশ্য হলো ইতিহাস স্মরণ করা, শহীদদের স্মরণ করা, শান্তিকে ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
ইতিহাস আমাদের সতর্ক করে দেয়: ন্যায়ের প্রতি বিশ্বাস অটল থাকবে, শান্তির আকাঙ্ক্ষা অপ্রতিরোধ্য, আর জনগণের শক্তি অপরাজেয়!
ক্ষণিকের জোর-দুর্বলতা নির্ভর করে শক্তির উপরে, কিন্তু সকল জয়-পরাজয় নির্ভর করে ন্যায়ের উপরে। ন্যায়, আলো ও প্রগতি অবশ্যই অন্যায়, অন্ধকার ও প্রতিক্রিয়াকে পরাজিত করবে। যে কোনো সময়ে আমাদের মানবতার সার্বজনীন মূল্যবোধগুলো প্রচার করতে হবে, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে হবে, যাতে বিশ্ব ন্যায়নিষ্ঠায় পরিপূর্ণ হয় এবং মহাবিশ্ব উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
মানবজাতি একই গ্রহে বাস করে, তাই আমাদের একে অপরের সাথে সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে হবে, এবং কখনই ‘বনের আইনে’ (জোর যার মুল্লুক তার) ফিরে যাওয়া যাবে না। যে কোনো সময়ে, আমাদের শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে অবিচল থাকতে হবে, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে হবে, এবং হাতে হাত রেখে মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি গড়ে তুলতে হবে।
মানুষই ইতিহাসের রচয়িতা, এবং একটি সুখময় ও মঙ্গলময় জীবনের সন্ধান বিশ্বের জনগণের অভিন্ন আকঙ্খা। যে কোনো সময়ে, আমাদের জনগণের হৃদয়কে আমাদের নিজের হৃদয় হিসেবে, বিশ্বের স্বার্থকে আমাদের নিজের স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, এবং জনগণের কল্যাণ বৃদ্ধির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে।
চীনা শৈলীর আধুনিকায়ন হল শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে চলা আধুনিকায়ন। চীন সব সময় বিশ্বের শান্তির শক্তি, স্থিতিশীলতার শক্তি এবং অগ্রগতির শক্তি। আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি যে সকল দেশই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবে, শান্তিকে মূল্য দেবে, এবং একসাথে বিশ্বের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন করবে, মানবজাতির আরো সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তুলবে!
এখন আমরা উদযাপন করি:
চীনা জনগণের প্রতিরোধ-যুদ্ধ ও বিশ্ব ফ্যাসিবাদ-বিরোধী যুদ্ধের মহান বিজয়ীদের জন্য,
মানবজাতির স্থায়ী শান্তি, অভিন্ন সমৃদ্ধির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য,
চিয়ার্স!

আরও পড়ুন  বহুবছর পর মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের চীনে সফর

নিউজটি শেয়ার করুন

“চীনের যুদ্ধ-বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকীতে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ভাষণ”

আপডেট সময় ০৪:০২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

 

মান্যবর অতিথিগণ, বন্ধুগণ ও সাথীরা,
প্রথমত, আমি চীন সরকার ও চীনা জনগণের পক্ষ থেকে সকলকে আন্তরিক স্বাগত জানাচ্ছি! উপস্থিত সকলকে, দেশের সকল জাতির জনগণ ও বিশ্ববাসীকে বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি!
৮০ বছর আগে, চীনা জনগণ ১৪ বছর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর জাপানি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকারীদের সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করে এবং বিশ্ব ফ্যাসিবাদ-বিরোধী যুদ্ধের সম্পূর্ণ বিজয় ঘোষণা করে। এটি ছিল আধুনিক সময়ে চীনা জাতির গভীর সংকট থেকে মহান পুনরুজ্জীবনের দিকে ঐতিহাসিক বিপ্লববিন্দু, পাশাপাশি বিশ্ব উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লববিন্দু।
এই মহান বিজয় চীনা জনগণের বিশ্বের ফ্যাসিবাদ-বিরোধী মিত্রশক্তি এবং বিভিন্ন দেশের জনগণের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে অর্জিত। চীনা জনগণের আগ্রাসন প্রতিরোধে সমর্থন ও সহায়তাকারী বিদেশি সরকার ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের প্রতি চীন সরকার ও চীনা জনগণ চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে!
আজ সকালে, আমরা এক মহাসমারোহে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি, চীনা জনগণের প্রতিরোধ-যুদ্ধ ও বিশ্ব ফ্যাসিবাদ-বিরোধী যুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী গভীরভাবে স্মরণ করেছি, এর উদ্দেশ্য হলো ইতিহাস স্মরণ করা, শহীদদের স্মরণ করা, শান্তিকে ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
ইতিহাস আমাদের সতর্ক করে দেয়: ন্যায়ের প্রতি বিশ্বাস অটল থাকবে, শান্তির আকাঙ্ক্ষা অপ্রতিরোধ্য, আর জনগণের শক্তি অপরাজেয়!
ক্ষণিকের জোর-দুর্বলতা নির্ভর করে শক্তির উপরে, কিন্তু সকল জয়-পরাজয় নির্ভর করে ন্যায়ের উপরে। ন্যায়, আলো ও প্রগতি অবশ্যই অন্যায়, অন্ধকার ও প্রতিক্রিয়াকে পরাজিত করবে। যে কোনো সময়ে আমাদের মানবতার সার্বজনীন মূল্যবোধগুলো প্রচার করতে হবে, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে হবে, যাতে বিশ্ব ন্যায়নিষ্ঠায় পরিপূর্ণ হয় এবং মহাবিশ্ব উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
মানবজাতি একই গ্রহে বাস করে, তাই আমাদের একে অপরের সাথে সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে হবে, এবং কখনই ‘বনের আইনে’ (জোর যার মুল্লুক তার) ফিরে যাওয়া যাবে না। যে কোনো সময়ে, আমাদের শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে অবিচল থাকতে হবে, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে হবে, এবং হাতে হাত রেখে মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি গড়ে তুলতে হবে।
মানুষই ইতিহাসের রচয়িতা, এবং একটি সুখময় ও মঙ্গলময় জীবনের সন্ধান বিশ্বের জনগণের অভিন্ন আকঙ্খা। যে কোনো সময়ে, আমাদের জনগণের হৃদয়কে আমাদের নিজের হৃদয় হিসেবে, বিশ্বের স্বার্থকে আমাদের নিজের স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, এবং জনগণের কল্যাণ বৃদ্ধির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে।
চীনা শৈলীর আধুনিকায়ন হল শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে চলা আধুনিকায়ন। চীন সব সময় বিশ্বের শান্তির শক্তি, স্থিতিশীলতার শক্তি এবং অগ্রগতির শক্তি। আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি যে সকল দেশই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবে, শান্তিকে মূল্য দেবে, এবং একসাথে বিশ্বের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন করবে, মানবজাতির আরো সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তুলবে!
এখন আমরা উদযাপন করি:
চীনা জনগণের প্রতিরোধ-যুদ্ধ ও বিশ্ব ফ্যাসিবাদ-বিরোধী যুদ্ধের মহান বিজয়ীদের জন্য,
মানবজাতির স্থায়ী শান্তি, অভিন্ন সমৃদ্ধির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য,
চিয়ার্স!

আরও পড়ুন  বাংলাদেশিদের ১ দিনেই ভিসা দেবে চীন: চীনের রাষ্ট্রদূত