ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

গাজায় আরও এক ফুটবলারের মৃত্যু, ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেল মুহান্নাদের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • / 697

ছবি সংগৃহীত

 

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় আরও এক ফিলিস্তিনি ফুটবলারের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মুহান্নাদ আল-লিলি স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানের কাছে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তার জীবন থেমে গেল।

প্যালেস্টিনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) ও স্থানীয় গণমাধ্যম ওয়াফা নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, সেন্ট্রাল গাজার আল-মাঘাজি শরণার্থী ক্যাম্পে সোমবার রাতে চালানো হামলায় মুহান্নাদ নিহত হন। ড্রোন থেকে ছোড়া একটি মিসাইল মুহান্নাদের তিনতলা ভবনের বেডরুমে আঘাত হানে। এতে তার মাথায় মারাত্মক আঘাত ও রক্তক্ষরণ হয়। প্রায় একদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন  গাজা গণহত্যায় মাইক্রোসফটের কেলেঙ্কারি ফাঁস

ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ জানিয়েছে, ইসরায়েলের চলমান হামলা শুরুর আগে মুহান্নাদের স্ত্রী নরওয়ে চলে যান। সেখানে তাদের সন্তান জন্ম নেয়। স্ত্রী-সন্তানের কাছে পৌঁছানোর জন্য নিরাপদ সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন মুহান্নাদ, কিন্তু তার সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, মুহান্নাদ নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ২৬৫ জন ফুটবল খেলোয়াড়ের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে মোট নিহত ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ৫৮৫ জনে পৌঁছেছে।

ক্যারিয়ারের শুরুতে মুহান্নাদ নিজ গ্রাম আল-মাঘাজির স্থানীয় ক্লাব খাদামাত আল-মাঘাজির হয়ে খেলতেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে তিনি ক্লাবটির সিনিয়র দলের নেতৃত্ব দেন এবং দলকে ফিলিস্তিন প্রিমিয়ার লিগে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে শাবাব জাবালিয়া ক্লাবে যোগ দিয়ে দুই মৌসুম খেলেন এবং ২০১৮-১৯ মৌসুমে তার দল লিগে রানার্সআপ হয়।

পরবর্তীতে গাজা স্পোর্টস ক্লাবে যোগ দিলেও গুরুতর হাঁটুর ইনজুরি (ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) থাকায় বেশি দিন খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। ফলে তিনি আবারও নিজের পুরনো ক্লাবে ফিরে আসেন।

উল্লেখ্য, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলের টানা হামলায় ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় আরও এক ফুটবলারের মৃত্যু, ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেল মুহান্নাদের

আপডেট সময় ০৩:৪৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

 

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় আরও এক ফিলিস্তিনি ফুটবলারের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মুহান্নাদ আল-লিলি স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানের কাছে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তার জীবন থেমে গেল।

প্যালেস্টিনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) ও স্থানীয় গণমাধ্যম ওয়াফা নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, সেন্ট্রাল গাজার আল-মাঘাজি শরণার্থী ক্যাম্পে সোমবার রাতে চালানো হামলায় মুহান্নাদ নিহত হন। ড্রোন থেকে ছোড়া একটি মিসাইল মুহান্নাদের তিনতলা ভবনের বেডরুমে আঘাত হানে। এতে তার মাথায় মারাত্মক আঘাত ও রক্তক্ষরণ হয়। প্রায় একদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন  ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় পশ্চিম তীরে ৫০,০০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত

ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ জানিয়েছে, ইসরায়েলের চলমান হামলা শুরুর আগে মুহান্নাদের স্ত্রী নরওয়ে চলে যান। সেখানে তাদের সন্তান জন্ম নেয়। স্ত্রী-সন্তানের কাছে পৌঁছানোর জন্য নিরাপদ সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন মুহান্নাদ, কিন্তু তার সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, মুহান্নাদ নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ২৬৫ জন ফুটবল খেলোয়াড়ের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে মোট নিহত ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ৫৮৫ জনে পৌঁছেছে।

ক্যারিয়ারের শুরুতে মুহান্নাদ নিজ গ্রাম আল-মাঘাজির স্থানীয় ক্লাব খাদামাত আল-মাঘাজির হয়ে খেলতেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে তিনি ক্লাবটির সিনিয়র দলের নেতৃত্ব দেন এবং দলকে ফিলিস্তিন প্রিমিয়ার লিগে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে শাবাব জাবালিয়া ক্লাবে যোগ দিয়ে দুই মৌসুম খেলেন এবং ২০১৮-১৯ মৌসুমে তার দল লিগে রানার্সআপ হয়।

পরবর্তীতে গাজা স্পোর্টস ক্লাবে যোগ দিলেও গুরুতর হাঁটুর ইনজুরি (ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) থাকায় বেশি দিন খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। ফলে তিনি আবারও নিজের পুরনো ক্লাবে ফিরে আসেন।

উল্লেখ্য, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলের টানা হামলায় ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।